প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দর্পচূর্ণ তুই বুঝবি। তবুও, মেয়েকে ঠকাতে পেরেচি, কিন্তু নিজের স্ত্রীকে ঠকাতে সাহস করিনি । 영 কথা শোনো বোঁ ; একবার পায়ে হাত দিয়ে তার ক্ষমা চাও গে। কেন, কি দুঃখে ? আমার মাথা কেটে ফেললেও আমি তা পারব না ঠাকুরঝি। কেন পারবে না ? স্বামীর পায়ে হাত দিতে লজ্জা কি ? বেশ ত, তোমার দোষ না হয় নেই, কিন্তু তাকে প্রসন্ন করা যে সকল কাজের বড়। না-আমার তা নয়। ভগবানের কাছে খাটি থাকাই আমার সকল কাজের বড়। যতক্ষণ সে অপরাধ না করচি, ততক্ষণ আর কিছুই ভয় করিনে । বিমলা রাগিয়া বলিল, বে, এসব পাকামির কথা আমরাও জানি, তখন কিছুই কোন কাজে আসবে না বলে দিচ্চি। চোখ বুজে বিপদ এড়ানো যায় না। দাদা সত্যই তোমার ওপর বিরক্ত হয়ে উঠচেন । ইন্দু উদাসভাবে বলিল, তার ইচ্ছে। বিমলা মনে মনে অত্যন্ত জলিয়া উঠিয়া বলিল, সেই ইচ্ছে টের পাবে যেদিন সৰ্ব্বনাশ হবে। দাদা যেমন নিরীহ, তেমনি কঠিন। তার এ-দিক দেখেচ, ও-দিক দেখতে এখনো বাকী আছে—ত বলে দিচ্চি । আচ্ছা, দেখতে পেলে তোমাকে খবর দিয়ে আসব। বিমলা আর কিছু বলিল না। খানিকক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া, একটা নিশ্বাস ফেলিয়া ধীরে ধীরে বলিল, তা সত্যি। বিশ্বাস হয় না বটে, স্বামীর স্নেহে বঞ্চিত হবো। কিন্তু সে-মানুষ যে দাদা নয়—অমুখের সময় তাকে ভাল করে চিনেচি। বুকের কপাট র্তার একবার বন্ধ হয়ে গেলে আর খোলা যাবে না । এইবার ইন্দুও মুখ গম্ভীর করিল। কহিল, খোলা না পাই, বাইরেই থাকব। খুলে দেবার জন্য র্তার পায়ে ধরেও সাধব না—তোমাকেও সুপারিশ করতে ডাকব লা। ও-কি, রাগ করে চললে নাকি ? বিমলা দাড়াইয়া উঠিয়া কহিল, রাগ নয়—দুঃখ করেই যাচ্চি। বে, নিজের বোনের চেয়েও তোমাকে বেশি ভালবেসেচি বলেই প্রাণটা কেঁদে কেঁদে ওঠে। দাদা যে অমন করে বলতে পারেন, আমি চোখে দেখে না গেলে বিশ্বাসই করতুম না।

ዓማ