প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৮৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দৰ্পচূণ কিসের ভয় মা ? ইলু আর একটি চুমা খাইয়া বলিল, কিছু নাম, সব মিথ্যে-সব মিথ্যে। যা ত মা, দেখে আয় ত তোর বাবা কি কচ্চেন ? মেয়ে ছুটিয়া চলিয়া গেল। আজ দু'দিন স্বামী-স্ত্রীতে একটা কথাও হয় নাই । কমলা ফিরিয়া আসিয়া বলিল, বাবা চুপ করে শুয়ে আছেন। চুপ করে ? আচ্ছা, তুই শুয়ে থাকৃ মা, আমি দেখে আসি, বলিয়া ইন্দু নিজে চলিয়া গেল। পর্দার ফঁাক দিয়া দেখিল তাই বটে। তিনি উপরের দিকে চাহিয়া সোফায় শুইয়া আছেন। মিনিট পাচ-ছয় দাড়াইয়া দেখিয়া ইন্দু ফিরিয়া আসিল । আজ প্রবেশ করিতে সাহস হইল না দেখিয়া সে নিজেই ভারী আশ্চৰ্য্য হইয়া গেল। কমলা । কি মা ? তোর বাবার বোধ হয় খুব মাথা ধরেচে। যা মা, বসে বসে একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দে গে। মেয়েকে পাঠাইয়া দিয়া, ইন্দু নিজে আড়ালে দাড়াইয়া উদগ্রীব হইয়া দুইজনের কথাবার্তা শুনিতে লাগিল । কন্যা প্রশ্ন করিল, কেন এত মাথা ধরেচে বাবা ? পিতা উত্তর দিলেন, কই, ধরেনি ত মা ? কন্যা পুনরায় জিজ্ঞাসা করিল, মা বললেন যে খুব ধরেচে ? পিতা কিছুক্ষণ চুপ করিয়া কন্যার মুখপানে চাহিয়া রহিলেন। একটু পরে বলিলেন, তোমার মা জানে না । পর্দা ঠেলিয়া ইন্দু সহজভাবে ঘরে ঢুকিল। টেবিলের আলোটা কমাইয়া দিয়া কহিল, রোগা শরীরে এত পরিশ্রম কি সহ হয়! যা ত মা কমলা, ওপর থেকে ওডিকোলনের শিশিটা নিয়ে আয়—আর রামটহলকে একটু বরফ কিনে আনতে বলে দে । মেয়েকে তুলিয়া ইদুশিয়রে আসিয়া বসিল। চুলের মধ্যে হাত দিয়া বলিল, মাথায় আগুন উঠচে যেন! নরেন্দ্র চোখ বুজিয়া রহিল—কিছুই বলিল না। ইন্দু নীরবে মাথায় হাত বুলাইয়া দিতে দিতে ঈষৎ ঝুঁকিয়া সস্নেহ-কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিল, আজ বুকের ব্যথাটা কেমন আছে ? - তেমনি । २१→