প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তবে এই যে রাগ করে দু'দিন ওষুধ খেলে না, বেড়ে গেলে কি হবে বল ত ? নরেন্দ্র চোখ মেলিয়া শ্ৰান্ত-কণ্ঠে বলিল, আমার শরীরটা ভাল নেই—একটু চুপ করে থাকতে চাই ইন্দু। এই কথার এই জবাব ! ইন্দু তড়িৎবেগে উঠিয়া দাড়াইয়া বলিল, তাই থাকে। আমার ঘাট হয়েচে, তোমার ঘরে ঢুকেছিলাম। দ্বারের কাছে আসিয়া হঠাৎ দাড়াইয়া বলিল, নিজের প্রাণটা নষ্ট করে আমাকে শাস্তি দিতে পারবে না। এই চিঠিখানা পড়ে দেখ, বাবা আমাকে দশ হাজার টাকা উইল করে দিয়েচেন। বলিয়া বঁ হাতের চিঠিটা সোফার দিকে ছুড়িয়া ফেলিয়৷ দিয়া বাহির হইয়া আসিয়া দাড়াইল । তারপর মুখে আচল গুজিয়া কান্না চাপিতে চাপিতে নিজের ঘরে ঢুকিয়া দ্বার বন্ধ করিয়া শুইয়া পড়িল । কথা সহিতে, হার মানিতে সে শিখে নাই—অনেক নারীই শিখে না—তাই আজ তাহার সমস্ত সাধু সংকল্পই ব্যর্থ হইয়া গেল। সে কি করিতে গিয়া কি করিয়া ফিরিয়া আসিল । Ꮡ ও কি ঠাকুরবি,—তোমরা কাদছিলে নাকি ? চোখ দুটি তোমাদের যে জবাফুল হয়েছে । অম্বিকাবাবুর স্ত্রী শুনিতেছিলেন এবং বিমলা উপুড় হইয়া বই পড়িতেছিল ; ধড়মড় করিয়া উঠিয়া বসিয়া চোখ মুছিয়া হাসিল,—উঃ । দুর্গামণির দুঃখে বুক ফেটে যায় বোঁ ! ইন্দু জিজ্ঞাসা করিল, কে দুর্গামণি ? - ন্যাক সেজে না বোঁ । জানো ন, কে দুর্গামণি ? চারিদিকে যে এত স্থখ্যাতি বেরিয়েচে, তা ঠিক বটে। ইন্দু আর কিছুই বুঝিল না, শুধু বুঝিল একখানা বইয়ের কথা হইতেছে। হাত বাড়াইয়া কহিল, দেখি বইটা । হাতে লইয়া উপরেই দেখিল গ্রন্থকার—তাহার স্বামীর নাম লেখা। পাতা উণ্টাইতেই চোখে পড়িল উৎসর্গ করা হইয়াছে বিমলাকে! ইন্দু বইখান আগ-গোড়া নাড়িয়া চাড়িয়া রাখিয়া দিল। লেখা হইয়াছে, ছাপা হইয়াছে, দেওয়া २b-०