প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনা আসিয়া স্থির হইয়া রহিল। অনেকক্ষণ পর্য্যন্ত সে একটা কথাও কহিল না, তারপর আস্তে আস্তে মাথা নাড়িয়া বলিল, তাই বটে ষোড়শী, তাই বটে ! জীবনে আজও ত তুমি পাপ করোনি–ও তুমি পারবে না সত্যি। একটুখানি হাসিয়া বলিল, টাকা-কড়ির বদলে যে সম্রম বেচা যায় না—ও যেন আমি ভুলেই গেছি! তাই হোক, যা সত্যি তাই তুমি বলো—জমিদারের তরফ থেকে আর কোন উপদ্রব তোমার ওপর হবে না । এককড়ি ব্যাকুল হইয়া আবার কি কতকগুলা বলিতে গেল, কিন্তু বাহিরের রুদ্ধ দ্বারে পুনঃ পুন: করাঘাতের শব্দে এবারেও তাহা বলা হইল না, কেবল তাহার মুখখানাই শাদা হইয়া রহিল। জীবানন্দ সাড়া দিয়া কহিল, খোলা আছে, ভিতরে আসুন ; এবং পরক্ষণেই উন্মুক্ত দরজার সম্মুখে দেখা গেল ছোট-বড় জন-কয়েক পুলিশ-কৰ্ম্মচারীর পিছনে দাড়াইয়া স্বয়ং জেলার ম্যাজিস্ট্রেট এবং তাহারই কাধের উপর দিয়া উকি মারিতেছে তারাদাস চক্রবর্তী। সে ভিতরে ঢুকিয়াই কাদিয়া বলিল, ধৰ্ম্মাবতার, হুজুর ! এই আমার মেয়ে, মা-চণ্ডীর ভৈরবী । আপনার দয়া না হলে আজ ওকে টাকার জন্তে খুন করে ফেলতো ধৰ্ম্মাবতার। কে-সাহেব ঘোড়শীর আপাদমস্তক পুনঃপুনঃ নিরীক্ষণ করিয়া পরিষ্কার বাঙলায় জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার নাম ষোড়শী ? তোমাকেই বাড়ি থেকে ধরে এনে উনি বন্ধ করে রেখেছেন ? ষোড়শী মাথা নাড়িয়া কহিল, না, আমি নিজের ইচ্ছেয় এসেচি, কেউ আমার গায়ে হাত দেয়নি । চক্রবর্তী চেঁচামেচি করিয়া উঠিল, না হুজুর, ভয়ানক মিথ্যে কথা ! গ্রামসুদ্ধ সাক্ষী আছে । মা আমার ভাত রাধছিল, আটজন পাইক গিয়ে মাকে বাড়ি থেকে মারতে মারতে টেনে এনেছে । ম্যাজিস্ট্রেট জীবানন্দের প্রতি কটাক্ষে চাহিয়া ষোড়শীকে পুনশ্চ বলিলেন, তোমার কোন ভয় নেই, তুমি সত্যি কথা বল। তোমাকে বাড়ি থেকে ধরে এনেছে ? না, আমি আপনি এসেচি। এখানে তোমার কি প্রয়োজন ? ষোড়শী শুধু কহিল, আমার কাজ ছিল। সাহেব একটু হাসিয়া প্রশ্ন করিলেন, সমস্ত রাত্রিই কাজ ছিল ? ষোড়শী তেমনি মাথা নাড়িয়া শাস্ত মৃদু-কণ্ঠে বলিল, ই, সমস্ত রাত্রিই আমার কাজ ছিল। ওঁর অমুখ করেছিল বলে বাড়ি ফিরে যেতে পারিনি।