প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৯৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বাটীর সম্মুখে কামাখ্যাবাবুর সহিত সাক্ষাৎ হইল। হরদেববাবু চীৎকার করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, মা কেমন ? কামাখ্যাবাবু কহিলেন, আমুন, চলুন। হরদেববাবু ভিতরে গিয়ে দেখিলেন, সরলা বিস্তুচিকা রোগে আক্রান্ত, একদিনে । সরলাকে যেন আর চেনা যায় না। চক্ষু বসিয়া গিয়াছে, পদ্মের মত মুখখানিতে কালিমা পড়িয়াছে। বিজ্ঞ হরদেববাবু বুঝিলেন অবস্থা ভাল নহে। চক্ষু মুছিয় ডাকিলেন, মা সরলা । সরলা চাহিয়া দেখিল । তখনও সরলার বেশ চৈতন্য আছে—কেমন আছ মা ? সরলা হাসিয়া বলিল, ভাল আছি ত ! দুইজনেই বুঝিল, এটা আপোষে মিটমাট হইয়া গেল। সকলে চলিয়া যাইলে সত্যেন্দ্ৰ আসিয়া কাছে বসিল । দারুণ আতঙ্কে কথা বাহির হইল না। তখন জোর করিয়া মীরস ভাঙ্গা গলায় সত্যেন্দ্র ডাকিল, সরো। শুষ্ক ভাঙ্গা গলা । ক্ষতি কি ! সেই পরিচিত স্বর, সেই আদরের ডাক-সরো ! এ কি ভুল হয় ? সরলা চাহিল। সে হরদেববাবুকে দেখিয়া পূর্বেই সত্যেন্ত্রের আগমন অনেকটা অকুমান করিয়াছিল । সরলা স্বামীকে তামাশা করিতে বড় ভালবাসিত, হাসিয়া বলিল, কি, নিতে এসেচ ? কথা বসিয়া গিয়াছে। এতক্ষণ কোনমতে সত্যেন্দ্র চক্ষুর জল চাপা দিয়া রাখিয়াছিল, অবস্থা দেখিয়া বালির বাধ ভাঙ্গিয়া গেল। সত্যেন্দ্র জানিত, এ-সময়ে কাদিতে নাই। কিন্তু পোড়া চোখের জলের কি সে বিবেচনা আছে ? বেশ ধীরে ধীরে স্বচ্ছন্দে তাহার একটির পর একটি করিয়া ফোটায় নামিতে আরম্ভ করিল। তাহারা যে সরলার অঙ্গে মিশিতেছে ! এ অবকাশ তাহাদের কখনও হইয়াছে কি ? কখনও হয় নাই। তোমার কিংবা সরলার খাতিরে তাহারা কি এ সুযোগ ছাড়িয়া দিবে ? সরলা স্বামীকে কখনও কঁাদিতে দেখে নাই। সেও কালি। অনেকক্ষণ পরে চক্ষু মুছিয়া সে বলিল, ছি, কাদ কেন ? পুরুষমানুষের কি কাদতে আছে ? এ কি ? বটে সরলা ? বেশ বুঝিয়াছ। আন্তৰ্দ্দাহে তাহারা শুকাইয়া কাঠ হইয়া যাউক, একফোটা জল যেন না পড়ে। অশ্র স্ত্রীলোকের জন্য। পুরুষের তাহাতে হাত দিবার অধিকার নাই। যন্ত্রণায় পুড়িয়া যাও কাদিতে পাইবে না। কাদিলে স্ত্রীলোক হইয়া যাইবে। সরলা ! এ ব্যবস্থা কি তোমরাই করিয়াছ ? সরলা স্বামীর হাত আপনার হাতে টিপিয়া ধরিয়া কাদিয়া বলিল, পরজন্ম বিশ্বাস কর কি ? সত্যেন্ত্র ক্ষমিঙে কাদিতে বলিল, করতাম কিনা জানি না, কিন্তু আজ হতে সম্পূর্ণ दि१ॉन कब्रद । २१३