প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৩০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ সত্যেন্দ্র বলিল, কাদচ কেন ?—কাদচ কেন ? অশ্রবেগ দ্বিগুণ মাত্রায় বহিতে লাগিল, তাহার ষোল বৎসর বয়সে স্বামীর এই আদরের কথা ! ' অনেকক্ষণ চাপিয়া চাপিয়া কাদিয়া চোখ মুছিয়া ধীরে ধীরে সে বলিল, তুমি আমাকে দেখতে পার না কেন ? কি জানি কেন । সত্যেরও বড় কান্না অাসিতেছিল। তাহী রোধ করিয়া সে বলিল, দেখতে পারি না তোমাকে কে বললে ? তবে যত্ন করতে পারি না । নলিনী নিরুত্তরে সকল কথা শুনিতে লাগিল । সত্যেন্দ্র কিছুক্ষণ নীরবে থাকিয়া বলিল, ভেবেছিলাম এ-কথা কাকেও বলব না, কিন্তু না বলেও কোনও লাভ নাই, তোমাকে কিছু গোপন করব না। সকল কথা খুলে বললে বুঝতে, আমি এমন কেন । আমি এখনও সরলাকে—আমার পূৰ্ব্ব স্ত্রীকে ভুলতে পারিনি। ভুলব, এমন ভরসা ও করি না, ইচ্ছাও করি না । তুমি হতভাগ্যের হাতে পড়েচ —তোমাকে কখনও সুখী করতে পারব, এ আশা মনে হয় না । নিজের ইচ্ছায় তোমাকে বিবাহ করিনি-নিজের ইচ্ছায় তোমাকে ভালবাসতে পারব না । গভীর নিশীথে দুইজনে অনেকক্ষণ এইভাবে বসিয়া রহিল। সত্যেন্দ্ৰ বুঝিতে পারিল, নলিনী কঁাদিতেছে। সে কাদিয়াছিল কি ? একে একে সরলার কথা মনে পড়িতে লাগিল, ধীরে ধীরে সেই মুখখানি হৃদয়ে জাগিয়া উঠিল -সেই “নিতে এসেচ ?” মনে পড়িল । অনাহূত অশ্রু সত্যেন্দ্রর নয়ন রোধ করিল, তাহার পর গগু বাহিয়া ধীরে ধীরে ঝরিয়া পড়িল । চক্ষু মুছিয়া সত্যেন্দ্র ধীরে ধীরে নলিনীর হাত দুটি আপনার হাতে লইরা বলিল, কেঁদে না নলিনী, আমার হাত কি ? নিশি-দিন অন্তরে আমি কি যন্ত্রণাই যে ভোগ করি তা কেউ জানে না । মনে বড় কষ্ট । এ কষ্ট যদি কখনও যায়, তা হলে হয়ত তোমাকে ভালবাসতে পারবো, ইয়ুত তোমাকে আবার যত্ন করতে পারব । এই বিষাদপূর্ণ স্নেহমাখা কথার মূল্য কয়জন বুঝে । নলিনী বড় বুদ্ধিমতী, সে স্বামীর কষ্ট বুঝিল । স্বামী তাহাকে ভালবাসেন না, এ-কথা সে র্তাহার মুখে শুনিল, তথাপি তাহার অভিমান হইল না। বোকা মেয়ে । ষোল বংসরে যদি অভিমান করিবে না তবে করিবে কবে ? কিন্তু নলিনী ভাবিল, অভিমান আগে, ন স্বামী আগে ? - সেই দিন হইতে কি করিলে স্বামীর কষ্ট যায়, ইহাই তাহার একমাত্র চিস্তার বিষয় হইল। কি করিলে স্বামী সতীনকে ভুলিতে পারেন, এ-কথা সে একবারও তাৰিল না। ব্যথায় যদি কেহ ব্যর্থী হয়, কষ্টতে যদি কেহ সহানুভূতি প্রকাশ করে, ቅሯቁ፡