প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৩০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অষ্টম পরিচ্ছেদ ফুলশয্যা অমন রূপে-গুণে বেী, পুত্রের পছন্দ হয় না ! গৃহিণীর বড় দুঃখ । অমন চাদপানী বে লইয়া ঘর করিতে পারিলেন না ভাবিয়া গৃহিণী অত্যন্ত বিমর্ষ হইয়া আছেন। জননীর শত চেষ্টাতেও পুত্রের মত ফিরিল না। এখন আর উপায় কি ? ছেলের যদি পছন্দ হইল না, তখন কিসের বেী? ছেলের আদরেই ত বৌয়ের আদর! আর আমারই বা হাত কি ? নিজে দেথিয়া শুনিয়া বিবাহ করিলে আমি কি আটকাইতে পারি? ইত্যাদি মৃদু বচন আওড়াইতে আওড়াইতে অত্যাসাচুসারে গৃহিণী বরণডালা সাজাইতে বসিলেন । দুই বৎসর পূৰ্ব্বে হরদেববাবুর মৃত্যু হইয়াছিল। সে-কথা স্মরণ হইল--চক্ষে জল আসিল, আবার নলিনীর কথা মনে পড়িলে—জলবেগ আরও বৰ্দ্ধিত হইল। কি জানি, কেমন বেী আসিবে ? কৰ্ত্ত বঁচিয়! থাকিলে বোধ হয় পোড়াকপালির এ দুরবস্থা দেখিতে হইত না । সত্যেন্দ্র বিবাহ করিয়া আসিল। মা বে বরণ করিয়া ঘরে তুলিলেন। আবার পোড়! চোথে জল আসিল । জল মুছিতে মুছিতে তিনি বলিলেন, চোখে কি পড়েচে, কেবল জল আসছে। গিরিবালা বড় মুখফোড় মেয়ে—বিশেষ নলিনীর সহিত তাহার বেহান পাতানে ছিল, সে বলিয়া ফেলিল, এই বয়সে তিনবার, আরও কতবার চোখে কি পড়বে কে জানে ! কথাটা গৃহিণী শুনিলেন, সত্যরও কানে গেল। কাল সাধের ফুলশয্যা । কোথা হইতে একটা ভারি জমকালো রকম তত্ত্ব আসিয়াছে। বর-কনের ঢাকাই শাড়ি, ধুতি, চাদর ইত্যাদি বড় স্বন্দর রকমের । কনের বারাণসী চেলিখনির মত স্বন্দর চেলি গ্রামে ইতিপূৰ্ব্বে কেহ দেখে নাই। সকলেই জিজ্ঞাসা করিতেছে, কোথাকার তত্ত্ব ? মা এক-একবার ঢোক গিলিয়া বলিতেছেন, সত্যর কে একজন বন্ধু পাঠিয়েচে । গৃহিণী চোখের জল চাপিয়া, যথার্থ সংবাদ চাপিয়া হাসি কান্না-মিশ্রিত মুখে তত্ত্বের মিষ্টান্নাদি বণ্টন করিলেন। সকলে যে যাহার ভাগ লইয়া চলিয়া গেল। যাইবার সময় রাজবালা বলিল, বেশ তত্ত্ব করেচে। মৃন্ত্যকালী বলিল, তা আর হবে না ? বড়লোক তত্ত্ব পাঠালে এমনই পাঠায় । ক্রমশ: এ-কথা চাপা পড়িল । তখন যোগমায়া বলিল, আচ্ছ, আবার বিয়ে করলে কেন ? জ্ঞানদা কহিল, কি জানি বোন, এমন রূপে-গুণে বে। কে জানে, ও-সব বোঝা যায় না।