প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৩৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ס\ হেডমাস্টার মহাশয়ের কন্যার বিবাহ-উপলক্ষ্যে গুরুচরণ কৃষ্ণনগরের উদ্দেশে যাত্রা করিয়া বাহির হইয়াছিলেন, হঠাৎ শুনিতে পাইলেন দিন-দুই হইল পরেশ বাড়ি আসিয়াছে, কিন্তু আসিয়াই জরে পড়িয়াছে। ব্যস্ত হইয়া পাশের ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিতেছিলেন, সম্মুখে ছোট ভাইকে দেখিতে পাইয়া জিজ্ঞস করিলেন, পরেশের নাকি জর ? ছ, বলিয়া হয়িচরণ বাহির হইয়া গেল। ছোট বধুমাতার বাপের বাড়ির দাসী পথ আটকাইয়া বলিল, আপনি ঘরের ভেতর যাবেন না । যাবে না । কেন ? ঘরে মা বসে আছেন । র্তাকে একটুখানি সরে যেতে বল না ঝি । দাসী কহিল, সরে আবার কোথায় যাবেন, ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্চেন । বলিয়া সে নিজেয় কাজে চলিয়া গেল । গুরুচরণ আচ্ছল্পের মত ক্ষণকাল দাড়াইয়া থাকিয়া ডাকিয়া বলিলেন, পরেশ, কেমন আছো বাবা ? ভিতর হইতে এই ব্যাকুল প্রশ্নের কোন সাড়া আসিল না, কিন্তু ঝি কোথা হইতে জবাব দিয়া কহিল, দাদাবাবুর জ্বর হয়েচে শুনতে পেলেন ত! গুরুচরণ স্তব্ধভাবে সেখানে মিনিট দুই-তিন দাড়াইয়া থাকিয়া আস্তে আস্তে বাহির হইয়া আসিলেন এবং কাহাকেও কোন কথা না কহিয়া রেলওয়ে স্টেশনের অভিমুখে প্রস্থান করিলেন । সেখানে বিবাহ-বাড়িতে আর কেহ তেমন লক্ষ্য করিল না, কিন্তু কাজ-কৰ্ম্ম চুকিয়া গেলে, তাহার বহুদিনের বন্ধু হেডমাস্টারমশাই আড়ালে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ব্যাপারটা কি ঘটেছে গুরুচরণ ? হরিচরণ না-কি ভারি তোমার পেছনে লেগেচে ? গুরুচরণ অন্যমনস্কের মত কহিলেন, হরিচরণ ? কই না ! না কি হে ? হরিচরণের শয়তানি কাও ত সবাই শুনেচে । - গুরুচরণের হঠাৎ যেন সমস্ত কথা মনে পড়িয়া গেল, কহিলেন, হা স্থা, বিষয়সম্পত্তি নিয়ে হরিচরণ গণ্ডগোল করচে বটে। ❖oግ