প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৩৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরেশ হরিচরণের বিরুদ্ধে নালিশ রুজু হইল। গুরুচরণ র্তাহার সাবেক-দিনের সোনার চেন বিক্রি করিয়া বড় উকিলের মোটা ফি দাখিল করিলেন । নির্দিষ্ট দিনে মামলার ডাক পড়িল । হরিচরণ হাজির হইল, কিন্তু বাদিনীর দেখা নাই। উকিল কি একটা বলিল, হাকিম মকদ্দমা খারিজ করিয়া দিলেন । ভিড়ের মধ্যে গুরুচরণের নজর পড়িল পরেশের উপর। সে তখন মুখ ফিরাইয়া মৃদু মৃদ্ধ হাসিতেছে । গুরুচরণ বাটী আসিয়া শুনিলেন, বাপের বাড়িতে কাহার কি নাকি একটা ভারি অমৃখের সংবাদ পাইয়া মেজবোঁ স্নানাহারের সময় পান নাই, গাড়ি ডাকাইয়া সেখানে চলিয়া গেছেন । পঞ্চুর মা হাত-মুখ ধোবার জল আনিয়া দিয়া হঠাৎ কাদিয়া ফেলিয়া বলিল, রাতও মিথ্যে, দিনও মিথ্যে বড়বাবু, তুমি আর কোথাও চলে যাও—এ পাপের সংসারে বোধ হয় তোমার আর জায়গা হবে না । ঢাক আসিল, ঢোল আসিল, কাসি আসিল, মামলা জয়ী হওয়ার উপলক্ষ্যে ও-বাড়িতে ৮শুভচণ্ডীর পূজার বাদ্যভাণ্ড-রবে সমস্ত গ্রাম তোলপাড় হইয়া উঠিবার উপক্রম হইল । 8 দ্বিধা-বিভক্ত ভদ্রাসনের এক অংশে রহিল হরিচরণ ও অপর অংশে রহিলেন গুরুচরণ ও সংসারের বহুদিনের দাসী পঞ্চর মা। পরদিন সকালে পঞ্চুর মা আসিয়া কহিল, রান্নার সমস্ত যোগাড় করে দিয়েচি বড়বাবু। রান্নার যোগাড় ? ও—ঠিক, চল যাচ্চি। বলিয়া গুরুচরণ উঠিবার উপক্রম করিতে দাসী কহিল, কিছু তাড়াতাড়ি নেই বড়বাবু, বেলা হোক না—আপনি বরঞ্চ আজ গঙ্গায় স্নান করে আম্বন । আচ্ছা তাই যাই, বলিয়া গুরুচরণ নিমেষের মধ্যে গঙ্গা-স্নানে যাইবার জন্য প্রস্তুত হইয়া দাড়াইলেন। র্তাহার কাজ বা কথার মধ্যে অসঙ্গতি কিছুই ছিল না, তবুও পঞ্চুর মার কেমন যেন ভারি খারাপ ঠেকিল। তাহার কেবলই মনে হইতে লাগিল, এ যেন সে বড়বাবু নয়। পঞ্চুর মা বাড়ির ভিতরে আসিয়া টেগাইয়া বলিতে লাগিল, কখনো ভাল হবে না, কখনো না । শাস্তি ভগবান দেবেনই দেবেন। কাহার ভাল হইবে না, কাহাকে তিনি শাস্তি দেবেনই দেবেন, ঠিক বুঝা গেল כל אלא ♚★-8२