প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ একবার বিপদে পড়ে তার কাছে একশ’ টাকা ধার নিয়েছিলাম, সেটা বোধ হয় আর শোধ দেওয়া হয়নি । সহসা ষোড়শীর ওষ্ঠাধর চাপা হাসিতে ফুলিয়া উঠিল, কিন্তু সে তৎক্ষণাৎ তাহা ংবরণ করিয়া লইয়া সহজভাবে কহিল, আপনি সে জন্যে কোন ক্ষোভ মনে রাখবেন না। অলকার মা সে টাকা ধার ব’লে আপনাকে দেননি, যৌতুক বলেই দিয়েছিলেন। ক্ষণকাল চুপ করিয়া পুনশ্চ কহিল, আজ অপৰ্য্যাপ্ত সম্পদের ধিনে সে-সব দুঃখের কথা হয়ত মনে হতে চাইবে না, হয়ত সেদিনের একশ' টাকার মুল্য আজ হিসেব করাও কঠিন হবে, কিন্তু চেষ্টা করলে এটুকু মনেও পড়তে পারে যে, সে দিনটাও ঠিক এমনি দুদিনই ছিল । আজ ষোড়শীর ঋণটাই খুব ভারি বোধ হচ্চে, কিন্তু সেদিন ছোট্ট অলকার কুলটা মায়ের ঋণটাও কম ভারি ছিল না। জীবানন্দ আহত হইয়া কহিল, তাই মনে করতে পারতাম যদি না তিনি ওই ক’টা টাকার জন্য তার মেয়েকে বিবাহ করতে আমাকে বাধ্য করতেন । ষোড়শী কহিল, বিবাহ করতে তিনি বাধা করেন নি, বরঞ্চ করেছিলেন আপনি । কিন্তু থাক্‌ ও-সব বিশ্ৰী আলোচনা । আপনাকে ত এইমাত্র বলেচি, আজ আর সেই তুচ্ছ টাকা ক’টার মূল্য-নিরূপণ সম্ভব হবে না, কিন্তু ওই মাত্র ছিল অলকার মায়ের জীবনের সঞ্চয় । মেয়ের কোন একটা সদ্‌গতি করবার ও-ছাড়া আর কিছু যখন তার হাতে ছিল না, তখন টাকা ক’টির সঙ্গে মেয়েটাকেও আপনারই হাতে দিতে হ’লো । কিন্তু বিবাহ ত আপনি করেন নি, করেছিলেন শুধু একটু তামাশা। সম্প্রদানের সঙ্গে সঙ্গেই সেই যে নিরুদ্দেশ হলেন, এই বোধ হয় তারপরে কাল প্রথম দেখা । জীবানন্দ কহিল, কিন্তু তারপরে ত তোমার সত্যিকারের বিবাহই হয়েচে গুনেচি । ষোড়শী ধৈর্য্য হারাইল না । তেমনি শাস্ত গাম্ভীর্য্যের সহিত কহিল, তার মানে আর একজনের সঙ্গে। এই না ? কিন্তু নিরপরাধ নিরুপায় বালিকার ভাগ্যে এ বিড়ম্বন যদি ঘটেই থাকে, তবু ত আপনার সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। জীবানন্দ কুষ্ঠিত হইয়া কহিল, ষোড়শী, তখন তুমি ছেলেমানুষ ছিলে, অনেক কথাই ঠিক জানো না । তোমার মা যদি আজ বেঁচে থাকতেন তিনি সাক্ষী দিতেন, তিনি সত্যি কি চেয়েছিলেন। তোমার বাবাকে আজকের পূৰ্ব্বে কখনো দেখি নি, কেবল সেই সম্প্রদানের রাত্রে নামটা মাত্র শুনেছিলাম, কিন্তু তিনিই যে তারাদাস, তুমিই ষে অলকা, সে আমি স্বপ্নেও কল্পনা করি নি। যোড়শী তাড়াতাড়ি বাধা দিয়া বলিল, আজও ত কল্পনা করবার প্রয়োজন নেই। Կն