প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৩৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ করুন পরের হাতে ঠেলে ফেলবার আগেই এর গঙ্গাযাত্রাটা সমাধা করে যাই । দোহাই দাদা, অমত করবেন না, হুকুমটি দিন । প্রার্থনার রসটা এককড়ি বুঝলো না, সবিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করলে, কার গঙ্গাযাত্রা করতে চাও, আমাদের সঙ্ঘের ? জলধি বললে, ঠিক তাই। মরবেই ত, শুধু নিশ্বাসটুকু বেরোবার পূৰ্ব্বে একটু সমারোহে ঘাটে নিয়ে যাওয়া । এককড়ি স্তব্ধ হয়ে চেয়ে রইলো । জলধি বলতে লাগলো, অফিস-ঘরে খাতাপত্রগুলো আছে। সংখ্যায় নিতান্ত কম নয়। তা হোক, ওগুলো শুধু মুমুধুর গায়ের নোঙর কাপড়-চোপড়। দাম কানাকড়িও নয়, বরঞ্চ রোগের বীজাণু ছড়াবার আশঙ্কা আছে। চলুন, সদস্যবৃন্দ সমাগত হবার পূৰ্ব্বে দেশলাই জালিয়ে সংকার করে ফেলা যাক। এককড়ি ধীরে ধীরে জিজ্ঞাসা করলে, আজ তোমার হ’লো কি জলধি ? জলধি বললে, কি হয়েছে সে বিবরণ আপনাকে সবিস্তারে দেবার নয়। মণিমালা উপস্থিত থাকলে সে হয়ত আপনাকে বুঝিয়ে দিতে পারভে। এককড়ি আবার কিছুক্ষণ চুপ করে চেয়ে রইলো, বোধ হয় মনে মনে কারণ বোঝবার চেষ্টা করলে, কিন্তু কিছুই স্পষ্ট হ’লে না। প্রশ্ন করলে, তোমার দ্বিতীয় অনুরোধ ? জলধি বললে, এটা আরও বেশী দরকারি দাদা । আপনার মামা মস্ত লোক, তাকে ধরে করপোরেশনে হোক, মিউনিসিপ্যালিটিতে হোক, জেলা বোর্ডে হোক, ইনসিওর কোম্পানীতে হোক,—অর্থাং আপনাদের স্বরাজ-পাণ্ডারা যেখানে বেশ একটু আসনপি’ড়ি হয়ে বসতে পেরেছেন, আমার চাকরি একটা করে দিন। যেন ছ’মুঠো খেতে পরতে পাই । এককড়ি ক্ষুব্ধ মুখে, কাতর স্বরে বললে, দুমুঠো খেতে পরতে কি পাও মা জলধি ? পাই বইকি দাদা, নইলে বেঁচে আছি কি করে ? দেশের সেবা করি, একেবারে নিঃস্বার্থ। গোলামি করিনে বলে লোক ঠকিয়ে ইজ্জত বজায় করি—ডান হাতটা ত রেখেছি দিনরাত বক্তার ঘুষিতে পাকিয়ে । তবু অলক্ষ্যে অগোচরে বাঁ-হাতের তেলোর পরে আপনার ছিটে-ফাট মুষ্টি-ভিক্ষে যা এসে পড়ে তাতেই শোধ করি মেসের দেন, খদ্দেরের বিল। কুকুর-বেড়ালে যেভাবে বঁাচে প্রায় তেমনি । আপনি বড়লোক, বিশ-পচিশ-পঞ্চাশ আপনার হিসেবের মধ্যেই নয় । কিন্তু আর নর দাদা, এর থেকে ছুটি দিন । এককড়ি চুপ করে রইলো, কথা কইলো না। দেয়ালের ঘড়িতে পাঁচটা বাঙ্গলো। \aఆ