প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৩৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ দেখিয়ে বললে, কাল রমেনের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলাম বজবজে। বাস ছেড়ে গায়ের পথ ধরে দু’জনে হাটলাম অনেকদূর। গঙ্গার ধারে একটা পুরোনো বটগাছ, তার তলায় গিয়ে দু’জনে বসে পড়লাম। আকাশে চাদ উঠলো, পাতার ফাকে ফাকে নামলো জ্যোৎস্নার আলো, স্বমুখে নদীর জলে দিলে স্বপ্ন মাখিয়ে,–ভুলে গেলাম ওঠবার কথা । হঠাৎ খেয়াল যখন হ’লো তখন ঘড়িতে দেখি বারোটা বেজে গেছে। অত রাত্রে ফেরবার বাস পাওয়া যাবে কোথায়, কাজেই রাত কাটাতে হ’লে গাছতলায় দাড়িয়ে। জলের ধারে খোলা জায়গায় একটু ঠাণ্ডা লাগলো বটে, কিন্তু সময় কাটলো যে কি করে দু’জনের কেউ টেরই পেলাম না। কাব্যের চরম ৷ এককড়ি হতবুদ্ধি হয়ে বললে, বলো কি জলধি, এ কি সত্য ঘটনা, না সে তামাসা করলে ? থামোক তামাশার ত কোন হেতু ছিল না দাদা। সে সত্য কথাই বলেছে। বলতে লজ্জা পেল না ? না । বরঞ্চ শুনে আমিই লজ্জা পেলাম ঢের বেশি। আসবার সময় বললাম, এ-বয়সে এ্যাডভেনচারে রস আছে মণি, কিন্তু এককড়িদা শুনে এ্যাপ্রিসিয়েট করবেন বলে ভরসা করিনে। হয়ত বা অ-খুশীই হবেন । সে বললে, তার অ-খুশী হবার কারণ তো নেই। আমি ছেলেমানুষ নই, এ তার বোঝা উচিত। এককড়ি আস্তে আস্তে বললে, বিলাতী গল্পের বইয়ে এ-রকম ঘটনা পড়েছি, কিন্তু দেশটাকে কি ওরা বিদেশ বানিয়ে তুলতে চায় না কি ? জলধি ক্রুর হাসি হেসে বললে, ওর মানে মণিমালা আর তার নতুন বন্ধু। কিন্তু দেশে ওরা ছাড়াও অন্ত লোক আছে তারা এ-দব পছন্দ করে না। অন্ততঃ আমি ত না। এর পরেও যদি আমাদের মধ্যে ওকে রাখতে হয়, আমাদের কল্যাণ-সঙ্ঘের নামটা একটুখানি পালটে নিতে হবে। এককড়ি নিরুত্তরে স্তব্ধ হয়ে বসে রইলো । জলধি বলতে লাগলো, এতাবৎ সঙ্ঘের বাবদে আপনার টাকা কম যায়মি । আমাদের টাকা নেই বটে, কিন্তু যা গেছে তার হিসেব নেই। হিসেব করতেও চাইনে। শুধু আবেদন, এবার বেকার যুবকটির একটা চাকরি করে দিন। এককড়ি তেমনি নীরবে বসে রইলো, জলধির কথাগুলো তার কানে গেল কি ন সন্দেহ। দেয়ালের ঘড়িতে সাতটা বাজলো। গোপাল এসে খবর দিলে বাবুর আসছেন। \38 Եր