প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আছেন ? একবার খবর দিয়ে আনতে পারো ? তিনি যা চাবেন আমি তাই দেব | ষোড়শী চমকিয়া উঠিল। নিজের অভিমান ও উত্তেজনার মধ্যে দিয়া এতক্ষণ পৰ্যন্ত দৃষ্টি তাহার সম্পূর্ণ বিপরীত দিকেই আবদ্ধ ছিল। এককড়ি কহিল, ডাক্তার আছে বৈ কি হুজুর-আমাদের বল্লভ ডাক্তারের খাস হাত-যশ বলিয়া সে সমর্থনের জন্য ভৈরবীর প্রতি চাহিল । ষোড়শী কথা কহিল না, কিন্তু জীবানন্দ ব্যগ্র-কণ্ঠে বলিয়া উঠিল, তাকেই আনতে পাঠাও এককড়ি, আর এক মিনিট দেরি ক’রে না । আর ঐখানে সব খালি বোতল পড়ে আছে--কাউকে বলে দাও গরম জল কবে আমুক । কোথায় গেল এরা ? এককড়ি কহিল, ঐ কথাটাই ত নিবেদন করতে আসছিলুম হুজুর, পুলিশের ভয়ে কে যে কোথায় সরেচে কাউকে খুজে পেলাম না ! কেউ নেই, সব পালিয়েচে ? সব, সব, জনপ্রাণী নেই। ওর। কি আর মানুষ হুজুর । কই, আমি ত— জীবানন্দ ব্যাকুল হইয়া বলিয়া উঠিল, ডাক্তার আনা কি হবে না এককড়ি ? এককড়ি বাধা পাইয়া মনে মনে লজ্জিত হইয়া কহিল, হবে না কেন হুজুর, আমি নিজে যাচ্চি, এখনো তিনি ঘরেই আছেন। কিন্তু গরম জল করতে গেলে ত বড় দেরি হয়ে যাবে ? তা ছাড়া হুজুরকে একলা - কিন্তু কথাটা শেষ হইবার সময় হইল না। ভিতরের একটা উচ্ছুদিত দুঃসহ বেদনায় জীবানন্দের মুখখানা চক্ষের পলকে বিবর্ণ হইয়া উঠিল, এবং ইহাকেই দমন করিতে সে উপুড় হইয়া পড়িয়া কেবল অস্ফুট-কণ্ঠে বলিয়া উঠিল, উঃ-আর আমি পারি নে ! ষোড়শীকে কিসে যেন কঠিন আঘাত করিল। এত বড় করুণ, হতাশ কণ্ঠস্বরও যে এমন দুৰ্দ্দাস্ত পাষণ্ডের মুখ দিয়া বাহির হইতে পারে, এ যেন তাহার স্বপ্নাতীত । আসলে মানুষ যে কত দুৰ্ব্বল, কত নিরুপায়, দুঃখে বেদনায় মানুষে মানুষে যে কত এক, কত আপনার, এই কথাটা মনে করিয়া তাহার চোখের কোণে জল আসিয়া পড়িল। কিন্তু এক মুহূৰ্ত্তে আপনাকে সংবরণ করিয়া লইয়া সে হতবুদ্ধি এককড়ির প্রতি চাহিয়া কহিল, তুমি বল্লভ ডাক্তারকে ডেকে আনো গে এককড়ি, এখানে যা করবার আমি করব এখন । পথে কাউকে যদি দেখতে পাও, পাঠিয়ে দিয়ে, ব’লে, পুলিশের ভয় আর কিছু নেই । এককড়ি আশ্চৰ্য্য হইল না, বরঞ্চ খুশী হইয়া বলিল, ডাক্তারবাবুকে যেখানে পাই আমি আনবই। কিন্তু রান্নাম্বরটা কি আপনাকে দেখিয়ে দিয়ে যাব ? Հն