প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰন্থ অলকা । নামটাকে আর সে উপেক্ষা করিতে পারিল না। কহিল, আজে ? জীবানন্দ বলিল, এখনও সময় হয়নি ? হয়ত তিনি আসবেন না, হয়ত কোথাও চলে গেছেন । ষোড়শী কহিল, আমি নিশ্চয় জানি, তিনি আসবেন--তিনি কোথাও যাননি । বাড়িতে কেউ কি এখনও ফিরে আসেনি ? ষোড়শী বলিল, না । জীবানন্দ একমুহূৰ্ত্ত চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, বোধ হয় তারা আর আসবে না, বোধ হয় এককড়িও একটা ছল ক’রে চ’লে গেল । ষোড়শী মৌন হইয়া রহিল । জীবানন্দ নিজেও বোধ হয় একটা ব্যথা সামলাইয়া লইয়া একটু পরেই বলিল, সবাই গেছে, তারা যেতে পারে—কেবল তোমারই যাওয়া হবে না । কেন ? বোধ করি আমি বঁচিব না—তাই ! আমার নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে, মনে হচ্চে, পৃথিবীতে আর বুঝি হাওয়া নেই। আপনার কি বড় কষ্ট হচ্ছে ? ছ। অলকা, আমাকে তুমি মাপ কর । ষোড়শী নির্বাক হইয়া রহিল। জীবানন্দ একটু ধামিয়া পুনরায় কহিল, আমি ঠাকুর-দেবতা মানি নে, দরকারও হয় না ; কিন্তু একটু আগেই মনে-মনে ভাবছিলুম। জীবনে অনেক পাপ করেচি, তার আর আদি-অবধি নেই । আজ থেকে থেকে কেবলি মনে হচ্চে বুঝি সব দেনা মাথায় নিয়েই যেতে হবে । ষোড়শী তেমনি নীরবেই দাড়াইয়া রহিল। জীবানন্দ কহিল, মানুষ অমরও নয়, মৃত্যুর বয়সও কেউ দাগ দিয়ে রাখে নি, কিন্তু এই যন্ত্রণ আর সইতে পারচি নে—উ: —মাগো ! বলিতে বলিতে তাহার সর্বশরীর ব্যথার অসন্থ তীব্রতায় যেন আকুঞ্চিত হইয়া উঠিল । ষোড়শী চাহিয়া দেখিল তাহার কেবল দেহই নয়, কপালে বিদু বিন্ধু ঘাম দিয়াছে এবং বিবর্ণ মুখে, দুই নিৰ্মীলিত চক্ষের নীচে রক্তহীন ওষ্ঠাধর একটা অত্যন্ত কঠিন রেখায় সংবদ্ধ হইয়া গেছে । পলকের জন্য কি একটা ভাবিয়া লহল, বোধ হয় একবার একটু দ্বিধাও করিল। তার পরে এই পীড়িতের শয্যায় হতভাগ্যের পার্শ্বে গিয়া উপবেশন করিল । গরম জলের বোতল দু’টা সাবধানে তাহার পেটের কাছে টানিয়া দিতে জীবানন্দ কেবল ক্ষণিকের জন্য একবার চোখ মেলিয়াই আবার মূদ্রিত করিল। ষোড়শী আঁচল দিয়া కe