প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ চুপ করিয়া রহিলেন তাহারাও এই সত্যটাই মানিয়া লইলেন। কারণ, কেন পারে: না, এমন প্রশ্ন করিবার মত দুঃসাহস কাহারও ছিল না। অথচ আশ্চৰ্য্য এই যে, ঠিক তাহাই ঘটিল। কোলাহল থামিলে শিরোমণি এই নিম্পত্তিটিই বোধ হয় আর একটু ফলাও করিতে যাইতেছিলেন, সহসা একটি মৃদু কণ্ঠস্বর শোনা গেল—বাবা ? সবাই মুখ তুলিয়া চাহিল। রায় মহাশয় নিজের মুখ তুলিয়া এ-দিকে ও-দিকে চাহিয়া পরিশেষে কন্যার কণ্ঠস্বর চিনিতে পারিয়া সস্নেহে সাড়া দিলেন, কেন মা ? হৈম মুখখানি আরও একটু বাড়াইয়া কহিল, আচ্ছা বাবা, সাহেব যে রাগ করেচেন, এ কি ক’রে জানা গেল ? বড়কর্তা প্রথমে একটু বিস্মিত হইলেন, তারপরে বলিলেন, জানা গেছে বই কি মা ! বেশ ভাল করেই জানা গেছে। বলিয়া তিনি তারাদাসের প্রতি দৃষ্টিপাত করিলেন । হৈম পিতার দৃষ্টি অনুসরণ করিয়া কহিল, পরশু থেকে ত সমস্তই গুনচি বাবা, তাকে কি ওঁর কথাটাই সত্যি বলে মেনে নিতে হবে ? রায় মহাশয় ইহার ঠিক জবাবটা খুজিয়া না পাইয়া শুধু বলিলেন, নয়ই বা কেন শুনি ? হৈম তারাদাসের পুরোবৰ্ত্তী সেই ছোট মেয়েটাকে দেখাইয়া বলিল, ঐটকে যখন যোগাড় করে এনেচেন, তখন মিথ্যে বলা কি এতই অসম্ভব বাবা ? তা ছাড়া সত্য-মিথ্যে ত যাচাই করতে হয়, এ-ত এক-তরফ রায় দেওয়া চলে না। কথা শুনিয়া সকলেই আশ্চৰ্য্য হইল, এমন কি, ষোড়শী পৰ্য্যস্ত বিস্মিত-চক্ষে তাহার প্রতি চাহিয়া রহিল। ইহার উত্তর দিলেন সৰ্ব্বেশ্বর শিরোমণি । তিনি স্থিতহাস্তে মুখখানি সরস করিয়া কহিলেন, বেট কৌমুলির গিরী কিনা, তাই জেরা ধরেচে। আচ্ছা, আমি দিচ্চি থামিয়ে। বলিয়া তিনি হৈমর প্রতি চাহিয়া কহিলেন, এটা দেবীর মন্দির –পীঠস্থান ! বলি, এটা ত মানিস ? হৈম ঘড়ি নাড়িয়া বলিল, মানি বৈ কি । শিরোমণি বলিলেন, তা যদি হয়, তা হলে তারাদাস বামুনের ছেলে হয়ে কি দেবমন্দিরে দাড়িয়ে মিছে কথা কইচে পাগলী ? বলিয়া তিনি প্রবল হাস্তে সমস্ত স্থানটা গরম করিয়া তুলিলেন। তাহার হাসির বেগ মন্দ্রীভূত হইলে হৈম কহিল, আপনি নিজেও ত তাই শিরোমণি জ্যাঠামশাই! অথচ এই দেবমন্দিরে দাড়িয়েই ত মিছে-কথার বৃষ্টি করে গেলেন। আমি বলেচি ওঁকে দিয়ে পূজো করালে আমার কাজ সিদ্ধ হবে না, এর বিন্ধু বিসর্গও ত সত্যি নয় । ፀነ