প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনা কোলাহল কথঞ্চিৎ প্রশমিত হইলে জামাতা সাহেব প্রশ্ন করিলেন, এই ফকির সাহেবটি কে ? হঠাৎ ইনি জুটলেন কি করে ? ইহার সম্বন্ধেও নানা জনে নানা অভিমত প্রকাশ করিলেন । শিরোমণি তাহার সারোদ্ধার করিয়া কহিলেন, ভালো না ছাই । মোচলমান আবার সিদ্ধ-পুরুষ ! সেসব কিছু নয়, তবে লোকটা কারও মন্দ-টদ করে না । বারুইয়ের ওপরে একটা বটগাছের তলায় আডডা ; অনেককাল আছে—তবে মাঝে মাঝে কোথায় যায়, আবার আসে । বছর-দুই ছিল না, আবার শুনচি নাকি দিন পাঁচ-ছয় হ’লো ফিরেচে। হয়ত ওরই মতলবে তালা ভেঙেচে । বলা কিছু যায় না—হাজার হোক মেলেচ্ছ ত । জামাতা জিজ্ঞাসা করিলেন, কিন্তু আজি এলেন কি করে ? তারাদাস এতক্ষণ নীরবেই ছিল, এবার কথা কহিল । বলিল, ও-পারের ওই বটগাছের সঙ্গে জায়গাগুলো সব মা-চণ্ডীর । তাই থেকে আলাপ | ফকিরসাহেব ষোড়শীকে বড় ভালবাসেন, থাকলে ওখানে ষোড়শী প্রায়ই যায় । তার কাছে পড়াশুনাও করে দেখেচি । জামাইসাহেব একটু হাসির ভাবে কহিলেন, ভালবাসে । বিস্তা-চর্চাও চলে ! এই ফকির সাহেবটির বয়স কত ? তারাদাস লজ্জিত হইয়া বলিল, আজ্ঞে, বুড়োমানুষ তিনি । বয়স ষাট-বাষটির কম নয়, ম বলে ডাকেন। একবার ষোড়শীর ভারি অমুখ হয়েছিল—প্রায় মরতে বসেছিল—উনিই ভাল করেন। সাহেব বলিলেন, ও -তাই নাকি! তবে কি জানো বাপু, ওদিকেও সাধুফকির, এদিকেও ডাকিনী-যোগিনী ! এই সব ভৈরব-ভৈরবীর দলটাকে –কিন্তু শেষ করিতে পারিলেন না । হঠাৎ স্ত্রীর মুখের একাংশে চক্ষু পড়িয়া এই বেফাঁস কথাটা ওখানেই রহিয়া গেল । আর কেহই কথা যোগ করিল না, কেবল অপ্রতিহত-গতি শিরোমণি নিবৃত্ত হইলেন না। অপরাধের বাকিটুকু সন্তে সম্পূর্ণ করিয়া দিয়া তিনিই কেবল বলিয়া উঠিলেন, একশো-বার বাবাজী, একশো-বার। এই সব ভণ্ড বেট-বেটির যেমন নষ্ট তেমনি ভ্রষ্ট ! তিনি বাম ও দক্ষিণে দৃষ্টিপাত করিয়া বোধ করি তাহার যোগেন-ভায়া ও মিত্তিরঞ্জার মাথা-নাড়াটাও অন্তত: প্রত্যাশ করিলেন । কিন্তু এবার তাহারাও নিৰ্ব্বাক্ রহিল, এবং দ্বারের অন্তরালবৰ্ত্তিনী হৈমবতীর শুষ্ক মুখখানি ক্ষণেকের জন্য একেবারে রাঙা হইয়া উঠিল। ঠিক এই সময়ে ভৈরবীকে সঙ্গে করিয়া সেই ভও মুসলমান ফকির ধীর-পদক্ষেপে প্রাঙ্গণের মধ্যে প্রবেশ করিলেন । কাহারও সংশয় রহিল না যে, শিরোমণির উচ্চকণ্ঠ র্তাহাদের শ্রতিগোচর হইয়াছে । 8帝 ۹-اس-):ه