প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ নিৰ্ম্মল কহিল, না, আসামীকে পাওয়া যাবে না । হৈম একটু হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কিন্তু তুমি সেই দয়ালু লোকটিকে কি পুরস্কার দিলে ? নিৰ্ম্মল কহিল, দেওয়া জিনিসটা কি তুমি এতই সোজা মনে কর । ও কি কেবল মাত্র দাতার মজ্জির উপরেই নির্ভর করে ? তা হলে দিতে পারোনি ? না, দেবার চেষ্টাও করিনি । হৈম স্বামীর মুখের প্রতি একমুহূৰ্ত্ত চাহিয়া থাকিয়া কহিল, কিন্তু আমার উচিত। বাবা তাকে বার করতে পারবেন না, কিন্তু আমি পারব ! নিৰ্ম্মল সন্দেহ প্রকাশ করিয়া কহিল, আমার মনে হয় তোমার বাবার মত তুমিও তাকে খুঁজে পাবে না। হৈম বলিল, যদি পাই ত আমাকেও কিছু পুরস্কার দিয়ে। কিন্তু আমি তাকে চিনেচি। কারণ তোমার মত অন্ধ মানুষকে ষে এই ভয়ানক অন্ধকারে নিৰ্ব্বিঘ্নে নদী পার করে ঘরের সামনে রেখে যেতে পারে, অথচ আত্মপ্রকাশ করে না, তাকে চিনতে পারা শক্ত নয় । তা ছাড়া, সন্ধ্যার আঁধারে গা ঢেকে আমিও একবার র্তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ঘর-দোর খোলা ; তিনি নেই বটে ; কিন্তু তারাদাস ঠাকুর সব দখল করে বসে আছেন । লুকিয়ে পালিয়ে এলাম। পথে একজন চেনা লোকের সঙ্গে দেখা হ’লো, সে বলে দিলে ষোড়শীকে সে সোজা নদীর পথে যেতে দেখেচে । এখন বুঝলে, যে দয়ালু লোকটি তোমাকে দিয়ে গেছেন তাকে আমি চিনি । কিন্তু সত্যি-সত্যিই কি একেবারে হাত ধরে রেখে গেছেন ? নিৰ্ম্মল ক্ষণকাল চিস্তা করিয়া মাথা নাড়িয়া কহিল, সত্যই তাই। যে মুহূর্তে তিনি নিশ্চয় বুঝলেন আমি অন্ধের সমান, সেই মুহূর্বে নিঃসঙ্কোচে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, আমার হাত ধরে আসুন। কিন্তু পরের জন্য একাজ ভূমি পারতে না । হৈম অত্যন্ত সহজে স্বীকার করিয়া কহিল, না । তাহার স্বামী কহিল, তা জানি । ইহার পরে কি করিয়া কি হইল সমস্ত ঘটনা একে একে বিবৃত করিয়া কহিল, অথচ এ ছাড়া আমার পক্ষে যে কি উপায় ছিল জানিনে। আবার ওদিকে তার বিপদের গুরুত্বটা একবার ভেবে দেখ। আমাকে তিনি সামান্তই জানতেন এবং তাও বোধ হয় ভাল করে জানতেন না। তবুও আমাকেই এই যে নির্জন অন্ধকার পথ দিয়ে নিয়ে এলেন, এর দায়িত্বটা কত বিশ্ৰী, কত ভয়ঙ্কর । বস্তুতঃ পথে চলতে চলতে আমার অনেকবার ভয় হয়েচে যদি কারে৷ Woo