প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৭৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰছ মাথায় গায়ে হাত দিয়া দেখিল, বৃষ্টির ছাটে সমস্ত ভিজিয়া গেছে। হাত ধরিয়া ঘরে আনিয়া কহিল, তুমি পাগল হয়েচ হৈম ? ইহার অধিক আর তাহার মুখেও আসিল না, আসার প্রয়োজনও বোধ করিল না। প্রদীপের আলোকে তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া দেখিল, অশ্রুর আভাস চোখের কোণ হইতে তখন পৰ্য্যস্ত বিলুপ্ত হয় নাই । SS সকালে উঠিয়া হৈম নিজের গত রাত্রির ব্যবহার স্মরণ করিয়া লজ্জায় মরিয়া গেল। নির্দোষ ও চরিত্রবান স্বামীর প্রতি এই অহেতুক অভিমানের উংপাতটাকে সে ঝড় জল ও দুর্যোগের মধ্যে তাহার আকস্মিক নিরুদেশের আতঙ্কাটার ঘাড়েই চাপাইয়া দিয়া মনে মনে হাসিতে চাহিল কিন্তু সমস্ত প্রাণটাকে খুলিয়া দিয়া ষে হাসি তাহার চিরদিনের অভ্যাস, কিছুতেই আজ তাহার আর নাগাল পাইল না। চোখের বালি বাহির হইয়া গিয়াছে বুঝিয়াও অবোধ চোখ-দুটা যেন তাহার কোন মতে নিঃশঙ্ক হইতে চাহিল না। শিরোমণিমহাশয় নিজে আসিয়া শুভক্ষণ স্থির করিয়া দিয়াছেন -সাড়ে দশট না কিছুতেই উত্তীর্ণ হয় । মা ভাড়ার-ঘরে যাত্রার আয়োজন ও রান্নাঘরে থাবার ব্যবস্থা করিতে অতিশয় ব্যস্ত, তাহার মুহুর্তের অবকাশ নাই, এমনি সময়ে সদর হইতে ডাক আসিল, রায়মহাশয় কন্যাকে আহবান করিয়াছেন । হৈম বাহিরে আসিয়া দেখিল কিসের যেন একটা উৎসব চলিয়ছে। পিতা ফরাসের উপর বাধা-স্থক হাতে বার দিয়া বসিয়াছেন, শিরোমণি মহাশয় আছেন, জমিদারের গোমস্ত এককড়ি নদী আছে, তারাদাস আছে, আরও কয়েকজন গণ্য-মান্ত ব্যক্তি আছেন, তাহার স্বামীও একধারে চুপ করিয়া বসিয়া আছেন। উৎসাহ ও আনশের প্রাবল্যে সবাই একযোগে সংবাদটা হৈমর গোচর করিতে গিয়া প্রথমটা কি বলিল কিছু বুঝাই গেল না। শিরোমণির দাত নাই, কিন্তু আওয়াজ জাছে—তাহার বিপুল শক্তি মুহূর্তেই আর সমস্ত থামাইয়া দিয়া যাহা প্রকাশ করিল তাহা এইরূপ—কাল ভয়ানক দুৰ্য্যোগের রাত্রে মহৎ কার্ধ্য সাধিত হইয়াছে—নিৰ্ব্বিয়ে শকপুরী হস্তগত হইয়াছে। ভৈরবী বাড়ি ছিল না, চরের মুখে খবর পাইয়। তারাদাস সেই মেয়েটাকে লইয়া এই অবকাশে গিয়া সমস্ত দখল করিয়া লইয়াছে। বিধা করা দূরে থাক, ভয়ে সে কথাটি পৰ্যন্ত বলে নাই, সামান্ত কিছু কিছু জিনিসপত্র লইয়া রাত্রেই বাহির হইয়া গেছে। প্রাচীরের বাহিরে মন্দির-সংলগ্ন ৰে so