প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৮০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ রাত্রির অন্ধকারও পিতার চক্ষুকে ফাকি দিবার প্রয়াস নিষ্ফল বুঝিয়া হৈম স্বামী ও তাহার পশ্চিম চাকরটাকে সঙ্গে করিয়া যখন ষোড়শীর নুতন বাসার দ্বারে আসিয়া উপস্থিত হইল, তখনও সন্ধ্যা হয় নাই। ষোড়শী একখানি কম্বলের উপর বসিয়া নিবিষ্টচিত্তে কি একখানা বই পড়িতেছিল, সম্মুখে জুতার শব্দ শুনিয়া মুখ তুলিয়া চাহিল এবং উঠিয়া দাড়াইয়া কহিল, আসুন। এস দিদি, এস। এই বলিয়া সে গুটানো কম্বলখানি প্রসারিত করিয়া পাতিয়া দিল । আসন গ্রহণ করিয়া স্বামী-স্ত্রী উভয়েই নিঃশব্দে কিছুক্ষণ নিরীক্ষণ করিয়া হৈম কহিল, দিদির এই নতুন ঘরখানির আর যাইদোষ থাক্, অপব্যয়ের অপবাদ শিরোমণিমশাই এমন কি আমার বাবা পৰ্য্যস্ত দিতে পারবেন না । এই আশ্চৰ্য্য বস্তুটি দেখবার লোভ দিয়েই আজ একে ধরে রেখেচি, নইলে আমাকে স্বদ্ধ নিয়ে দুপুরের গাড়িতে চলে গিয়েছিলেন আর কি ! স্বামীকে কহিল, কেমন, এ না দেখে গেলে অতুতাপ করতে হ’তো ? নিৰ্ম্মল কহিল, দেখেও ত কিছু কম করতে হবে মনে হয় না। হৈম স্বামীর মুখের দিকে চাহিয়া বলিল, সে ঠিক। হয়ত চোখে না দেখলেই ছিল ভাল। তাহার পর ষোড়শীর শাস্ত মলিন মুখখানির উপর নিজের স্নিগ্ধ চোখ দুটি রাখিয়া বলিল, আমরা সমস্তই শুনেচি, কিন্তু এ পাগলামি কেন করতে গেলে দিদি, এ ঘরে তুমি ত থাকতে পারবে না । আবেগে ও করুণায় শেষ দিকটায় তাহার কণ্ঠস্বর কঁাপিয়া গেল । কিন্তু ষোড়শীর গলায় ইহার প্রতিধ্বনি বাজিল না। সে অত্যস্ত সহজভাবে কহিল, অভ্যাস হয়ে যাবে। এর চেয়ে কত খারাপ ঘরে কত মানুষকে ত থাকতে হয় ভাই । তা ছাড়া বাবার বড় কষ্ট হচ্ছিল। হৈম প্রশ্ন করিল, তা হলে সমস্তই ছেড়ে দিলে ? ইহার উত্তর তাহার স্বামীর নিকট হইতে আসিল, সে কহিল, এ-ছাড়া আর কি উপায় আছে বলতে পারো ? সমস্ত গ্রামের সঙ্গে ত একজন অসহায় স্ত্রীলোক দিবারাত্রি বিবাদ করে টিকতে পারে না। ষোড়শীকে কহিল, এই ভাল। যদি স্বেচ্ছায় এইখানে থাকাই সঙ্কল্প করে থাকেন, এবং কুটার-বাসও অভ্যাস হয়ে যাবে বিশ্বাস করে থাকেন—সংসারে কিছুই ত্যাগ করা আপনার শক্ত হবে না। ষোড়শী মৌন হইয়। রহিল এবং তাহার মুখ দেখিয়াও তাহার মনের কথা কিছুই বুঝা গেল না । হৈম বলিল, তুমি সন্ন্যাসিনী, বিষয়-আশয় ছাড়া তোমার কঠিন নয়, কুড়েও তোমার সইবে আমি জানি, কিন্তু এর সঙ্গে যে মিথ্যে দুর্নাম লেগে রইল সেও কি লইবে দিদি ? १३