প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৮২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বাস করা তোমার সহ হবে না। বলিয়া সে পুনরায় হাসিয়া কহিল, সত্যই আমাকে ঘর থেকে টেনে-হিচড়ে কেউ ধরে নিয়ে যায়নি, আমি রাগের মাথায় আপনি বেরিয়ে পড়েছিলাম । নিৰ্ম্মল কহিল, কিন্তু আপনার রাগ আছে বলে ত মনে হয় না ? ষোড়শী হাসি চাপিয়া শুধু বলিল, আছে বৈ কি ! হৈমকে কহিল, কিন্তু সে তর্ক আমি করচিনে, সত্যই আমি মিথ্যে বলেছিলাম। কিন্তু ঘোর পাপিষ্ঠ বলে কি তাকে বঁাচাবার অধিকারও কারও নেই ? তোমার স্বামী উকিল, তাকে বরঞ্চ সময়মত জিজ্ঞাসা করে দেখো । নিৰ্ম্মল বলিল, সময়মত সাধারণ বুদ্ধিতে একটা জবাব দিতে পারি, কিন্তু ওকালতি বুদ্ধিতে ত কিছুই খুঁজে পাচ্ছিনে । ষোড়শী কহিল, তা ছাড়া এমন ত হতে পারে সজ্ঞানে অনেক কৰ্ম্মই তিনি করেন না--- হৈম বাধা দিয়া কহিল, তাই বলে কি নিজের বাপের বিরুদ্ধেও যেতে হবে ? এও কি সন্ন্যাসিনীর ধৰ্ম্ম ? ষোড়শী রাগ করিল না, হাসিমুখে কহিল, সন্ন্যাসিনীর হোক না হোক মেয়েমানুষের অন্ততঃ এমন জিনিস সংসারে থাকতে পারে যা বাপেরও বড় ! তাই যদি না হ’তো হৈম, এই ভাঙা কুঁড়ের মধ্যে তোমার পায়ের ধুলোই বা পড়ত কি করে ? হৈম শশব্যস্তে হেঁট হইয়া তাহার পায়ের ধূলা মাথায় লইয়া কহিল, অমন কথা তুমি মুখেও এনে না দিদি। আমার শ্বশুরকে কোন এক রাজ একখানি তলোয়ার থিলাত দিয়েছিলেন, ছেলেবেলায় আমি প্রায় সেখানি খুলে খুলে দেখতাম। খাপখানা তার ধুলো-বালিতে মলিন হয়ে গেছে, কিন্তু আসল জিনিসে কোথাও এতটুকু ময়লা ধরেনি। সে যেমন সোজা, তেমনি কঠিন, তেমনি খাটি—তার কথা আমার তোমার পানে চাইলেই মনে পড়ে। মনে হয়, দেশগুদ্ধ লোক সবাই ভুল করেচে, কেউ কিছু জানে না—ইচ্ছে করলে চোখের পলকে সেই খাপখানা ছুড়ে ফেলে দিতে পারো। কেন দিচ্চ না দিদি ? ষোড়শী তাহার ডান হাতখানি নিজের হাতের মধ্যে টানিয়ালইয়া কিছুক্ষণ নিঃশব্দে বসিয়া থাকিয়া কহিল, আজ তোমাদের যাওয়ার কথা ছিল, হ’লো না কেন ? বোধ হয় কাল যাওয়া হবে ? হৈম তাহার স্বামীকে দেখাইয়া কহিল, রাত্রে কে একে হাত ধরে নদী মাঠ প্রাস্তর নিৰ্ব্বিত্বে পার করে এনে বাড়িতে দিয়ে গেছেন, আমার বাবা তাকে পুরো এক টাকা বকশিস দিতে চেয়েছেন। কিন্তু টাকাটা তার হাতে পড়বে না, কারণ তিনি তাকে খুঁজে পাবেন না। এই অন্ধ মানুষটিকে আমন করে দিয়ে না গেলে ৰে ፄፀ