প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ করিবেই বা কি করিয়া, এবং তাহা গ্রহণ করিবেই বা সে কোন অধিকারে ? আবার হৈমকে মনে পড়িল। যাইবার সময় একটি কথা বলে নাই, কিন্তু স্বামীর আহবানে যখন র্তাহার হাত ধরিয়া সে অগ্রসর হইল, তখন তাহার প্রত্যেক কথাটিকে সে যেন নীরবে অনুমোদন করিয়া গেল । সুতরাং স্বামী ভুলিলেও ভুলিতে পারেন, কিন্তু স্ত্রী যে তাহার অমুচ্চারিত বাক্য সহজে বিস্তৃত হইবে না, ষোড়শী তাহা মনে মনে বিশ্বাস করিল। হৈমর সহিত পরিচয় তাহার বহুদিনব্যাপীও নয়, ঘনিষ্ঠ ও নয় । অথচ কোনমতে দ্বার রুদ্ধ করিয়া সে যখন তাহার কম্বলের শয্যাটি বিস্তৃত করিয়া ভূমিতলে উপবেশন করিল, তপন এই মেয়েটিকে তাহার বার বার মনে হইতে লাগিল । সেই যে সে প্রথম দিনটিতেই অযাচিত তাহার দুঃখের অংশ লইয়া গ্রামের সমস্ত বিরুদ্ধ শক্তির বিরুদ্ধে, পিতার বিরুদ্ধে, বোধ করি বা আরও একজনের বিরুদ্ধে গোপনে যুদ্ধ করিয়াছিল, সে চলিয়া গেলে কাল তাহার পাশে দাড়াইতে এখানে আর কেহ থাকিবে না ; প্রতিকূলতা উত্তোরত্তর বাড়িয়া উঠিতেই থাকিবে ; কিন্তু আপনার বলিতে, একটা সাত্ত্বনার বাক্য উচ্চারণ করিতে লোক মিলিবে না, অথচ এই ঝঙ্কা যে কোথায় গিয়া কি করিয়া নিবৃত্ত হইবে তাহারও কোন নির্দেশ নাই। এমনি করিয়া এই নিৰ্ব্বান্ধব জনহীন আলয়ে চারিদিকের ঘনীভূত অন্ধকারে একাকিনী বসিয়া সে অদূর ভবিষ্যতের সুনিশ্চিত বিপদের ছবিটাকে তন্ন তন্ন করিয়া দেখিতেছিল, কিন্তু কখন অজ্ঞাতসারে সে পরিপূর্ণ উপত্রবের আশঙ্কাকে সরাইয়া দিয়া ক্ষণকালের নিমিত্ত এক অপরিজ্ঞাত ভাবের তরঙ্গ তাহার বিক্ষুব্ধ চিত্তের মাঝে উত্তাল হইয়। উঠিল, সে জানিতে পারিল না । এতদিন জীবনটাকে সে যেভাবে পাইয়াছে সেইভাবেই গ্রহণ করিয়াছে । সে চণ্ডীর ভৈরবী-ইহার যে দায়িত্ব আছে, কর্তৃত্ব আছে, সম্পদ আছে, বিপদ আছে -- স্মরণাতীত কাল হইতে ইহার অধিকারিণীগণের পায়ে পায়ে যে পথ পড়িয়াছে, তাহা কোথাও সঙ্কীর্ণ কোথাও প্রশস্ত, পথ চলিতে কেহ বা সোজা হাটিয়াছেন, কাহারও বা বাকী পদচিহ্ন পরম্পরাগত ইতিহাসের অঙ্কে বিদ্যমান। ইহার অলিখিত পাতাগুলো লোকের মুখে মুখে কোথাও বা সদাচারের পুণ্য-কাহিনীতে উদ্ভাসিত, কোথাও বা ব্যভিচারের মানিতে কালো হইয়া আছে, তথাপি ভৈরবী-জীবনের সুনির্দিষ্ট ধারা কোথাও এতটুকু বিলুপ্ত হয় নাই। যাত্রা করিয়া সহজ ও দুর্গম, দুঞ্জেয় ও জটিল অনেক গলি-যুঁজি অনেককেই পার হইতে হইয়াছে, তাহার মুখ ও দুঃখভোগ কম নয় ; কিন্তু কেন, কিসের জন্য, এ প্রশ্নও বোধ করি কেহ কখনো করে নাই, কিংবা ইহাকে অস্বীকার করিয়া আর কোন একটা পথ খুজিতেও কাহারো প্রবৃত্তি হয় নাই। ভাগ্য-নির্দিষ্ট সেই পরিচিত খাদের মধ্যে দিয়েই ষোড়শীর জীবনের יקר