প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৯৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনা জানিতেন, তথাপি এই অভাবনীয় প্রকাগু নির্লজ্জতায় উপস্থিত কেহই লোকটার মুখের প্রতি সহসা চাহিতে পর্ষ্যস্ত পারিল না । হাসি থামিলে তিনি কহিলেন, সদালাপ ত হ’লো এবং দয়া করে মাঝে মাঝে এলে এমন আরও ঢের হতে পারবে, কিন্তু আপনাদের নালিশটা কি শুনি ? কিন্তু উত্তরে কাহারও মুখে কথা ফুটিল না, সকলে যেমন নীরবে বসিয়াছিল তেমনি নীরবে বসিয়া রহিল । জীবানন্দ কহিলেন, বলতে কি আপনাদের লজ্জা বোধ হচ্ছে ? এবার রায়মহাশয় মুখ তুলিয়া চাহিলেন ; বলিলেন, নদীমশাই ত সমস্ত জানেন, তিনি কি হুজুরের গোচর করেননি ? জীবানন্দ কহিলেন, হয়ত করেচেন, কিন্তু আমার মনে নেই। তা ছাড়া, তার গোচর করার প্রতি খুব বেশী অস্থিা না রেখে ব্যাপারটা আপনারাই বলুন । দ্বিরুক্তি দোষ ঘটতে পারে, কিন্তু কি আর করা যাবে । জমিদারের গোমস্তা—একটু মোকাবিলে হয়ে থাকা ভাল । ঠিক না ? প্রভূর মূপে এককড়ির এই মুখ্যাতিটুকুতে রায়মহাশয় মনে মনে আনন্দ লাভ করিলেন । কিন্তু চাঞ্চল্য প্রকাশ না করিয়া পরম গাম্ভীর্য্যের সহিত বলিলেন, হুজুর সর্বজ্ঞ। ভূত্যের সম্বন্ধে যথা ইচ্ছা আদেশ করতে পারেন, কিন্তু আমাদের অভিযোগ— কি অভিযোগ ? জনাৰ্দ্দন রায় কহিলেন, আমরা গ্রামস্থ ষোল-আনা ইতর-ভদ্র একত্র হয়ে— জীবানন্দ একটু হাসিয়া বলিলেন, তা দেখতে পাচ্চি। ওইট কি সেই ভৈরবীর বাপ তারাদাস ঠাকুর নয় ? এই বলিয়া তিনি তাহার প্রতি অঞ্জলি-সঙ্কেত করিলেন । তারাদাস সাড়া দিল না, জাজিমটার অংশ-বিশেষের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া নি:শবে বসিয়া রহিল, এবং রায়মহাশয়ের আনত মুখের পরেও একটা ফ্যাকাসে ছায়া পড়িল । কিন্তু মুখ রক্ষা করিলেন শিরোমণি-ঠাকুর । তিনি সবিনয়ে কহিলেন, রাজার কাছে প্রজা সস্তানতুল্য, তা দোষ করলেও সস্তান, না করলেও সস্তান । আর কথাটা একরকম ওরই। ওর কন্যা ষোড়শীর সম্বন্ধে আমরা নিশ্চয় স্থির করেচি, তাকে আর মহাদেবীর ভৈরবী রাখা যেতে পারে না । আমাদের নিবেদন, হুজুর তাকে সেবায়েতের কাজ থেকে অব্যাহতি দেবার আদেশ করুন । জমিদার চকিত হইয়া উঠিলেন, কহিলেন, কেন ? তার অপরাধ ? দুই-তিনজন প্রায় সমম্বরে জবাব দিয়া ফেলিল, অপরাধ অতিশয় গুরুতর। জীবানন্দ একে একে তাহাদের মুখের দিকে চাহিয়া অবশেষে জনাৰ্দ্দনের প্রতি wፃ