প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ চাই । জীবনে ইহাদের অনেকগুলিকেই দেখিয়াছি। বার-চায়েক এইরূপ ঘনিষ্ঠভাবেও মিশিয়াছি। দোষ যাহা আছে, সে ত আছেই। আমি গুণের কথাই বলিব। নিছক ‘পেটের দায়ে সাধুজী” আপনার ত আমাকেই জানেন, কিন্তু ইহাদের মধ্যেও এই দুটো দোষ আমার চোখে পড়ে নাই। আর চোখের দৃষ্টিটাও যে আমার খুব মোট তাও নয়। স্ত্রীলোক সম্বন্ধে ইহাদের সংযমই বলুন, আর উৎসাহের স্বল্পতাই বলুন —খুব বেশী ; এবং প্রাণের ভয়টা ইহাদের নিতান্তই কম, ‘যাবৎ জীবেৎ স্বত্থং জীবেৎ’ ত আছেই; কিন্তু কি করিলে অনেকদিন জীবেং, এ খেয়াল নাই। আমাদের সাধুবাবার এ ক্ষেত্রে তাহাই হইল। প্রথমটার জন্য দ্বিতীয়টা তিনি তুচ্ছ করিয়া দিলেন । একটুখানি খুনির ছাই এবং দু'ফোট কমণ্ডলুর জলের পরিবর্তে যে সকল বস্তু হু ছ করিয়া ঘরে আসিতে লাগিল, তাহা সন্ন্যাসী, গৃহী কাহারও বিরক্তিকর হইতে পারে না । রামবাবু সস্ত্রীক কাদিয়া আসিয়া পড়িলেন। চারদিন জরের পর আজ সকালে বড়ছেলের বসন্ত দেখা দিয়াছে, এবং ছোটছেলেটি কাল রাত্রি হইতেই জরে অচৈতন্য। বাঙালী দেখিয়া আমি উপযাচক হইয়া রামবাবুর সহিত পরিচয় করিলাম। ইহার পরে গল্পের মধ্যে মাস-থানেকের বিচ্ছেদ দিতে চাই। কারণ কেমন করিয়া এই পরিচয় ঘনিষ্ঠ হইল, কেমন করিয়া ছেলে-দুটি ভাল হইল—সে অনেক কথা। বলিতে আমার নিজেরই ধৈর্ঘ্য থাকিবে না, তা পাঠকের ত ঢের দূরের কথা। তবে মাঝের একটা কথা বলিয়া রাখি। দিন-পনের পরে রোগের যখন বড় বাড়াবাড়ি, তখন সাধুজী তাহার আস্তানা গুটাইবার প্রস্তাব করিলেন। রামবাবুর স্ত্রী কাদিয়া বলিলেন, সন্ন্যাসীদাদা, তুমি ত সত্যিই সন্ন্যাসী নও— তোমার শরীরে দয়া-মায়া আছে। আমার নবীন, জীবনকে তুমি ফেলে চলে গেলে, তারা কখখনো বাঁচবে না। কই, যাও দেখি কেমন ক’রে যাবে ? বলিয়া তিনি আমার পা ধরিয়া ফেলিলেন। আমার চোখেও জল আসিল, রামবাৰুও স্ত্রীর প্রার্থনায় যোগ দিয়া কাকুতি-মিনতি করিতে লাগিলেন। স্বতরাং আমি যাইতে পারিলাম না। সাধুবাবাকে বলিলাম, প্রভু, তোমরা অগ্রসর হও ; আমি পথের মধ্যে না পারি, প্রয়াগে গিয়া যে তোমার পদধূলি মাথায় লইতে পারিব, তাহাতে আর সন্দেহ নাই। প্রভু ক্ষুণ্ণ হইলেন। শেষে পুনঃ পুনঃ অমুরোধ করিয়া নিরর্থক কোথাও বিলম্ব না করি, সে বিষয়ে বারংবার সতর্ক করিয়া দিয়া সদলবলে যাত্রা করিলেন। জানি রামবাবুর বাটতেই রহিয়া গেলাম। এই অল্পদিনের মধ্যেই আমি যে ১৯২