প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ পারে নাই। সেটা পারে নাই ; কিন্তু এটা সে ঠিক বুঝিয়াছিল যে, ইস্কুল হইতে রেলিঙ ডিঙাইয়া বাড়ি আসিবার পথ প্রস্তুত করিয়া লইলে, তথায় ফিরিয়া যাইবার পথ গেটের ভিতর দিয়া আর প্রায়ই খোলা থাকে না । কিন্তু খোল ছিল, কি ছিল না, এ দেখিবার সখও তাঁহার আদে ছিল না। এমন কি, মাথার উপর দশ-বিশজন অভিভাবক থাকা সত্বেও কেহ কোনমতেই আর তাহার মুখ বিদ্যালয়ের অভিমুখে ফিরাইতে সক্ষম হইল না ! ইন্দ্র কলম ফেলিয়া দিয়া নৌকার দাড় হাতে তুলিল । তখন হইতে সে সারাদিন গঙ্গায় নৌকার উপর । তাহার নিজের একখানা ছোট ডিঙি ছিল ; জল নাই, ঝড় নাই, দিন নাই, রাত নাই—এক তাহারই উপর । হঠাৎ হয়ত একদিন সে পশ্চিমের গঙ্গায় একটানা-স্রোতে পান্‌সি ভাসাইয়া দিয়া, হাল ধরিয়া চুপ করিয়া বসিয়া রহিল, দশ পনর দিন আর তাহার কোন উদেশই পাওয়া গেল না। এমনি একদিন উদ্দেখাবিহীন ভাসিয়া যাওয়ার মুখেই তাহার সহিত আমার একান্ত-বাঞ্ছিত মিলনের গ্রন্থি মুদৃঢ় হইবার অবকাশ ঘটিয়াছিল। তাই এত কথা আমার বলা । কিন্তু যাহারা আমাকে জানে, তাহারা বলিবে, তোমার ত এ সাজে না বাপু । গরীবের ছেলে লেখাপড়। শিখিতে গ্রাম ছাড়িয়া পরের বাড়িতে আসিয়াছিলে—তাহার সহিত তুমি মিশিলেই বা কেন, এবং মিশিবার জন্য এত ব্যাকুল হইলেই বা কেন ? তা না হইলে ত আজ তোমার-- থাক্ থাক, আর বলিয়া কাজ নাই । সহস্ৰ লোক এ কথা আমাকে লক্ষ বার বলিয়াছে ; নিজেকে আমি এ প্রশ্ন কোটি বার করিয়াছি । কিন্তু সব মিছে । কেন যে—এ জবাব তোমরাও দিতে পারিবে না ; এবং না হইলে আজ আমি কি হইতে পারিতাম, সে প্রশ্ন সমাধান করিতেও কেহ তোমরা পারিবে না । যিনি সব জানেন, তিনিই শুধু বলিয়া দিতে পারেন—কেন এত লোক ছাড়িয়া সেই একটা হতভাগার প্রতিই আমার সমস্ত মন-প্রাণটা পড়িয়া থাকিত, এবং কেন সেই মনের সঙ্গে মিলিবার জন্তই আমার দেহের প্রতি কণাটি পর্য্যন্ত উন্মুখ হইয়া উঠিয়াছিল । সে-দিনটা আমার খুব মনে পড়ে। সারাদিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপাত হওয়াও শেষ হয় নাই । শ্রাবণের সমস্ত আকাশটা ঘনমেঘে সমাচ্ছন্ন হুইয়া আছে, এবং সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হইতে না হইতেই চারিদিক গাঢ় অন্ধকারে ছাইয়া গিয়াছে। সকাল সকাল বাইয়া লইয়। আমরা কয় ভাই নিত্য প্রথামত বাইরের বৈঠকখানায় ঢালা-বিছানার উপর রেড়ির তেলের সেঙ্গ জালাইয়া বই খুলিয়। বসিয়া গিয়াছি । বাহিরে বারান্দায় একদিকে পিসেমশায় ক্যান্বিশের খাটের উপর গুইয়া তাহার সান্ধ্যতম্রাটুকু উপভোগ করিতেছেন, এবং অন্যদিকে বসিয়া বৃদ্ধ রামকমল ভটচাষ আফিং খাইয়া, অন্ধকারে Wo