পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ দাড়াইয়া কি যেন ভাবিয়া লইল । তারপরে মশারির ভিতরে হাত দিয়া প্রথমে আমার কপালের উত্তাপ অনুভব করিল, পরে জামার বোতাম খুলিয়া বুকের উত্তাপ বারংবার অনুভব করিতে লাগিল, নিভৃতচারিণীর এই গোপন করম্পর্শে প্রথমট। কুষ্ঠিত ও লজ্জিত হইয়া উঠিলাম ; কিন্তু তখনই মনে হইল, সংজ্ঞাহীন রোগে সেবা করিয়া যে চৈতন্য ফিরাইয়া অনিয়াছে, তাহার কাছে আমার লজ্জা পাইবার অাছে কি । তাহার পরে সে বোতাম বন্ধ করিল, গায়ের কাপড়টা সরিয়া গিয়াছিল, গলা পৰ্য্যন্ত টানিয়া দিল ; শেষে মশারির ধারগুলা ভাল করিয়া গুজিয়া দিয়া অত্যন্ত সাবধানে কপাট বন্ধ করিয়া বাহির হইয়া গেল । আমি সমস্তই দেখিলাম, সমস্তই বুঝিলাম। যে গোপনেই আসিয়াছিল, তাহাকে গোপনেই যাইতে দিলাম। কিন্তু এই নির্জন নিশীথে সে যে তাহার কতখানি আমার কাছে ফেলিয়া রাখিয়া গেল, তাহা কিছুই জানিতে পারিল না। সকালে প্রস্ফুট জর লইয়াই ঘুম ভাঙিল। চোখ-মুখ জালা করিতেছে ; মাথা এত ভারী যে, শয্যাত্যাগ করিতেও ক্লেশ বোধ হইল। তবু যাইতেই হইবে। এ বাটতে নিজেকে আর এক দণ্ডও বিশ্বাস নাই—সে যে-কোন মুহূর্তেই ভাঙিয়া পড়িতে পারে। নিজের জন্যও তত নয় । কিন্তু রাজলক্ষ্মীর জন্যই রাজলক্ষ্মীকে ছাড়িয়া যাইতে হইবে, তাহাতে আর কিছুমাত্র দ্বিধা করা চলিবে না। মনে মনে ভাবিয়া দেখিলাম, সে তাহার বিগত জীবনের কালি অনেকখানিই ধুইয়া পরিষ্কার করিয়া ফেলিয়াছে। আজ তাহার চারিপাশে ছেলে-মেয়েরা মা বলিয়া ঘিরিয়া দাড়াইয়াছে। এই প্রীতি ও ভক্তির আনন্দধাম হইতে তাহাকে অসম্মানিত করিয়া, ছিনাইয়া বাহির করিয়া আনিব—এত বড় প্রেমের এই সার্থকতা কি অবশেষে আমার জীবন অধ্যায়েই চিরদিনের জন্য লিপিবদ্ধ হইয়া থাকিবে ? পিয়ার ঘরে ঢুকিয়া কহিল, এখন দেহটা কেমন আছে ? বলিলাম, খুব মন্দ নয়। যেতে পারব । আজ না গেলেই কি নয় ? ই, আজ যাওয়া চাই। তা হলে বাড়ি পৌঁছেই একটা খবর দিয়ে। নইলে আমাদের বড় ভাবনা হবে । তাহার অবিচলিত ধৈৰ্য্য দেখিয়া মুগ্ধ হইয়া গেলাম। তৎক্ষণাৎ সম্মত হইয়৷ বলিলাম, আচ্ছ। আমি বাড়িতেই যাব । আর গিয়েই তোমাকে খবর দেব। 9ु चै७