প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কি করিতে হইবে, সেজন্য সে সম্পূর্ণরূপে আর একজনের উপর নির্ভর করিত। ঘুম পাইতেছে, কি ক্ষুধা বোধ হইতেছে, অনেক সময় এটাও সে নিশ্চিত ঠাহর করিতে পারিত না। জ্ঞান হওয়া অবধি, তাহাকে বিমাতার উপর ভর করিয়া এই পঞ্চদশ বর্ষ কাটাইতে হুইয়াছে । সুতরাং বিমাতাকে তাহার জন্য অনেক কাজ করিতে হয়। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বাইশ ঘণ্টা তিরস্কার, অমুযোগ, লাঞ্ছনা, তাড়না, মুখবিকৃতি, এতদ্ভিন্ন পরীক্ষার বৎসর, পূৰ্ব্ব হইতেই তাহাকে সমস্ত রাত্রি সজাগ রাখিবার জন্য র্তাহার নিজের নিদ্রাসুখ বিসর্জন দিতে হইত। আহা, সপত্নীপুত্রের জন্য কে কবে এত করিয়া থাকে ! পাড়া-প্রতিবাসীরা একমুখে রায়গৃহিণীর স্বখ্যাতি না করিয়া উঠিতে পারে না। স্বরেন্দ্রের উপর তাহার আস্তরিক যত্বের এতটুকু ক্রটি ছিল না—তিরস্কার-লাঞ্ছনার পর-মুহূর্তে যদি তাহার চোখ-মুখ ছলছল করিত, রায়গৃহিণী সেটি জরের পূর্বলক্ষণ নিশ্চিত বুঝিয়া, তিন দিনের জন্য তাহার সাগু ব্যবস্থা করিয়া দিতেন। মানসিক উন্নতি শিক্ষাকল্পে র্তাহার আরও তীক্ষ দৃষ্টি ছিল। স্বরেন্দ্রের অঙ্গে পরিষ্কার কিংবা আধুনিক রুচি-অনুমোদিত বস্ত্রাদি দেখিলেই তাহার শখ এবং বাবুয়ানা করিবার গুপ্ত ইচ্ছা তাহার চক্ষে স্পষ্ট ধরা পড়িয়া যাইত, এবং সেই মুহূর্তেই দুই-তিন সপ্তাহের জন্য স্বরেন্দ্রের বস্ত্রাদি ব্ৰজক-ভবনে যাওয়া নিষিদ্ধ হইত। এমনিভাবে স্বরেন্দ্রের দিন কাটিতেছিল। এমনি সস্নেহ-সতর্কতার মাঝে তাহার কখনও কখনও মনে হইত, জীবনটা বাচিবার মত নহে, কখন বা সে মনে মনে ভাবিত, বুঝি এমনি করিয়াই সকলের জীবনের প্রভাতটা অতিবাহিত হয়। কিন্তু এক-একদিন আশপাশের লোকগুলো গায়ে পড়িয়া তাহার মাথায় বিভিন্ন ধারণা গুজিয়া দিয়া যাইত । একদিন তাহাই হইল। একজন বন্ধু তাহাকে পরামর্শ দিল যে, তাহার মত বুদ্ধিমান ছেলে বিলাত যাইতে পারিলে, ভবিষ্যতে অনেক উন্নতির আশা আছে। স্বদেশে ফিরিয়া আসিয়া সে অনেকের উপকার করিতে পারে। কথাটা স্বরেন্দ্রের মন্দ লাগিল না। বনের পাখির চেয়ে পিয়রের পাখিটাই বেশি ছটফট করে। স্বরেন্দ্র কল্পনার চক্ষে যেন একটু মুক্ত বায়ু, একটু স্বাধীনতার আলোক দেখিতে পাইতেছিল, তাই তাহার পরাধীন প্রাণটা উন্মত্তের মত পিঞ্জরের চতুৰ্দ্দিকে ঝটুপট, করিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতে লাগিল। সে পিতাকে আসিয়া নিবেদন করিল ষে, তাহার বিলাত যাইবার উপায় করিয়া দিতে হুইবে । তাহাতে যে-সকল উন্নতির আশা ছিল—তাহাও সে কহিল। পিতা কহিলেন, ভাবিয়া দেখিব। কিন্তু গৃহিণীর ইচ্ছা একেবারে אלאל