প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মূল্য সম্বন্ধে এমন স্বল্প দায়িত্ববোধ থাকা সত্বেও, তাহাকে বারংবার ফেল করিয়াই দিতে লাগিল। ইহাই অদৃষ্টের অন্ধ বিচার। ষাক—এখন আর সে দুঃখ জানাইয়া কি হইবে। সে-রাত্রেও ঘরের বাহিরে ঐ জমাট অন্ধকার এবং বারান্দায় তন্দ্রাভিভূত সেই ছুটে বুড়ে। ভিতরে মৃত্ন দ্বীপালোকের সম্মুখে গভীর-অধ্যয়নরত আমরা চারিটি প্রাণী । ছোড়া ফিরিয়া আসায় তৃষ্ণায় আমার একেবারে বুক ফাটিয়া যাইতে লাগিল। কাজেই টিকিট পেশ করিয়া উন্মুখ হইয়া রছিলাম। মেজদা তাহার সেই টিকিট-আঁট। ধাতার উপর ঝুকিয়ু পড়িয়া পরীক্ষা করিতে লাগিলেন—তৃষ্ণ পাওয়াটা আমার আইনসঙ্গত কি না, অর্থাং কাল-পরও কি পরিমাণে জল খাইয়াছিলাম । অকস্মাৎ আমার ঠিক পিঠের কাছে একটা ‘হুম্‌’ শব্দ এবং সঙ্গে সঙ্গে ছোড়াল ও যতীনদার সমবেত আৰ্ত্তকণ্ঠের গগনভেদী রৈ-রৈ চীৎকার—ওরে বাবারে, খেয়ে ফেল্পে রে! কিসে ইহাদিগকে ধাইয়। ফেলিল, আমি ঘাড় ফিরাইয়া দেখিবার পূর্বেই, মেজদা মুখ তুলিয়। একটা বিকট শব্দ করিয়া বিদ্বাবেগে তাহার দুই-পা সম্মুখে ছড়াইয়া দিয়। সেজ ট।ইয়া দিলেন। তখন সেই অন্ধকারের মধ্যে যেন দক্ষযজ্ঞ বাধিয়া গেল। মেজদা’র ছিল 'ফটের ব্যামো । তিনি সেই যে "ত্মে-অ’ করিয়া প্রদীপ উণ্টইয়া চিত হইয়া পড়িলেন, আর খাড়া হইলেন না। ঠেলাঠেলি করিয়া বাহির হইতেই দেখি, পিসেমশাই তার দুটো ছেলেকে বগলে চাপিয়া ধরিয়া তাহাদের অপেক্ষাও তেজে চেচাইয়া বাড়ি ফাটাইয়া ফেলিতেছেন । এ যে এ তিন বাপ ব্যাটার কে কতখানি ই করিতে পারে, তারই লড়াই চলিতেছে । এই সুযোগে একটা চোর নাকি ছুটিয়া পলাইতেছিল, দেউড়ির সিপাহীরা তাহাকে ধরিয়া ফেলিয়াছে। পিসেমশাই প্রচণ্ড চীৎকারে হুকুম দিতেছেন—আউর মারো— শালাকো মার ডালো ইত্যাদি । মুহূৰ্ত্তকাল মধ্যে আলোয়, চাকরে-বাকরে ও পাশের লোকজনে উঠান পরিপূর্ণ হইয়া গেল। দ্বরোওয়ানরা চোরকে মারিতে মারিতে আধমরা করিয়া টানিয়া আলোর সম্মুখে ধাক্কা দিয়া ফেলিয়া দিল। তখন চোরের মুখ দেখিয়া বাড়িমৃদ্ধ লোকের মুখ শুকাইয়া গেল ! –আরে, এ যে ভটচাযিামশাই । তথন কেহ বা জল, কেহ বা পাখার বাতাস, কেহ বা তাহার চোখে-মুখে হাত বুলাইয়া দেয়। ওদিকে ঘরের ভিতরে মেজদাকে লইয়া সেই ব্যাপার । পাখার বাতাস ও জলের ঝাপ্টা খাইয়া রামকমল প্রকৃতিস্থ হইয়া ফুপাইরা কাজিয়া উঠিলেন। সবাই প্রশ্ন করিতে লাগিল, অমন করে ছুটছিলেন কেন ?