পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


बछूर्ध्निनि রাখিয়াছে, তখন সে-ও তাঁহাদের মতই করিতে লাগিল। কিন্তু, অপরের অপেক্ষ তাহার ধারণা একটু ভিন্ন প্রকারের। সে ভাবিত, বড়দিদি বলিয়া । একটি জীবন্ত পদার্থ বাটীর মধ্যে থাকে, সকলকে দেখে, সব আবদার সহ করে, যাহার যাহা প্রয়োজন, তাহা তাহারই নিকট পাওয়া যায়। কলিকাতায় রাজপথে ঘুরিয়া ঘুরিয়া নিজের জন্য নিজে ভাবিবার প্রয়োজনটা সে কতক বুঝিয়াছিল, কিন্তু এখানে আসিয়া অবধি সে একেবারে ভুলিয়া গেল যে, আপনার জন্য তাহাকে বিগত জীবনে কোন একটি দিনও ভাবিতে হইয়াছিল বা পরে ভাবিতে হইবে । জামা, কাপড়, জুতা, ছাতি, ছড়ি-যাহা কিছু প্রয়োজন, সমস্তই তাহার কক্ষে প্রচুর আছে। রুমালটি পর্য্যন্ত তাহার জন্য সযত্বে কে যেন সাজাইয়া রাখিয়া গিয়াছে। প্রথমে কৌতুহল হুইত, সে জিজ্ঞাসা করিত, এ সব কোথা হইতে আসিল ? উত্তর পাইত, বড়দিদি পাঠাইয়া দিয়াছেন। জলখাবারের থালাটি পৰ্য্যন্ত দেখিলে সে আজকাল বুঝিতে পারে, ইহাতে বড়দিদির সযত্ব স্পর্শ ঘটিয়াছে । অঙ্ক কষিতে বসিয়া একদিন তাহার কম্পাসের কথা মনে পড়িল ; প্রমীলাকে কহিল, প্রমীলা ! বড়দিদির কাছ থেকে কম্পাস নিয়ে এস। কম্পাস লইয়া বড়দিদিকে কাজ করিতে হয় না, ইহা তাহার নিকট ছিল না ; কিন্তু বাজারে তখনই সে লোক পাঠাইয়া দিল। সন্ধ্যার সময় বেড়াইয়া আসিয়া স্বরেন্দ্রনাথ দেখিল, তাহার টেবিলের উপর প্রাথিত বস্তু পড়িয়া রহিয়াছে। পরদিন সকালে প্রমীলা কহিল, মাস্টারমশাই, কাল দিদি ঐটে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাহার পর মধ্যে মধ্যে সে এমন এক-আধটা জিনিস চাহিয়া বসিত যে, মাধবী সেজন্য বিপদে পড়িয়া যাইত। অনেক অনুসন্ধান করিয়া তবে প্রার্থনা পূর্ণ করিতে হইত। কিন্তু কখনও সে বলে নাই, দিতে পারিব না। কিংবা কখনও সে হঠাৎ হয় ত প্রমীলাকে কহিল, বড়দিদির নিকট হইতে পাচখানা পুরাতন কাপড় লইয়া এসে ; ভিখারীদের দিতে হইবে। নূতন-পুরাতন ৰাছিবার অবসর মাধবীর সব সময় থাকিত না ; সে আপনার পাঁচখানা কাপড় পাঠাইয়া দিয়া, উপরের গবাক্ষ হইতে দেখিত—চারি-পাচজন দুঃখী লোক কলরব করিতে করিতে ফিরিয়া যাইতেছে—তাহারাই বস্ত্রলাভ করিয়াছে। স্বরেন্দ্রনাথের এই ছোট খাটো আবেদন-অত্যাচার নিতাই মাধবীকে সহ করিতে হুইত। ক্রমশ: এ-সকল এরূপ অভ্যাস হইয়া গেল যে, মাধবীর আর মনে হইত না, ቅ8እ