প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ একটা নূতন জীব তাহার সংসারে আসিয়া দৈনন্দিন কাৰ্য্য-কলাপের মাঝখানটিকে নূতন রকমের ছোটে-খাটো উপদ্রব তুলিয়াছে। শুধু তাহাই নহে। এই নূতন জীবটির জন্য মাধবীকে আজকাল খুবই সতর্ক থাকিতে হয়, বড় বেশী খোজ লইতে হয়। সে যদি সব জিনিস চাহিয়া লইত, তাহা হইলেও মাধবীর অৰ্দ্ধেক পরিশ্রম কমিয়া যাইত ; সে ষে নিজের কোন জিনিসই চাহে না—এইটিই বড় ভাবনার কথা। প্রথমে সে জানিতে পারে নাই যে, স্বরেন্দ্রনাথ নিতান্ত অন্যমনস্ক প্রকৃতির লোক। প্রাতঃকালে চা ঠাণ্ড হইয়া যায়, সে হয়ত খায় না। জলখাবার হয়ত স্পর্শ করিতেও তাহার মনে থাকে না, হয়ত বা কুকুরের মুখে তুলিয়া দিয়া সে চলিয়া যায় । খাইতে বসিয়া অন্নব্যঞ্জনের সে কোন সম্মানই রাখে না, পাশে ঠেলিয়া নীচে ফেলিয়া সরাইয়া রাখিয়া যায় ; যেন কোন দ্রব্যই তাহার মনে ধরে না। তৃত্যেরা আসিয়া কহে, মাস্টারবাবু পাগলা, কিছু দেখে না, কিছু জানে না-বই নিয়েই বসে আছে। ব্ৰজবাবু মধ্যে মধ্যে জিজ্ঞাসা করেন, চাকরির কোনরূপ সুবিধা হইতেছে কি না। স্বরেন্দ্র সে কথার ভাসা ভাসা উত্তর দেয়। মাধবী পিতার নিকট সে-সব শুনিতে পায়, সে-ই কেবল বুঝিতে পারে যে, চাকরির জন্য মাস্টারবাবুর একতিল উদ্যোগ নাই, ইচ্ছাও নাই। যাহা আপাতত হইয়াছে, তাহাতেই সে পরম সন্তুষ্ট। বেলা দশটা বাজিলেই বড়দিদির নিকট হইতে স্বানাহারের তাগিদ অাসে। ভাল করিয়া আহার না করিলে বড়দিদির হইয়া প্রমীলা অঙ্গুযোগ করিয়া যায়। অধিক রাত্রি পৰ্য্যস্ত বই লইয়া বসিয়া থাকিলে ভূত্যেরা গ্যাসের চাবি বন্ধ করিয়া দেয়, বারণ করিলে শুনে না—বড়দিদির হুকুম । à একদিন মাধবী পিতার কাছে হাসিয়া বলিল, বাবা, প্রমীলা যেমন, তার মাস্টারও ঠিক তেমনি । কেন মা ? দুজনেই ছেলেমানুষ। প্রমীলা যেমন বোঝে না, তার কখন কি দরকার, কখন কি থাইতে হয়, কখন শুইতে হয়, কখন কি করা উচিত, তার মাস্টারও সেইরকম, নিজের কিছুই বোঝে নী—অথচ, অসময়ে এমনি জিনিস চাহিয়া বসে যে, জ্ঞান হইলে তাহা আর কেহ চায় না। ব্ৰজবাবু বুঝিতে পারিলেন না, মুখপানে চাহিয়া রহিলেন। মাধবী হাসিয়া বলিল, তোমার মেয়েটি বোঝে, কখন তার কি দরকার ? তা বোঝে না | অথচ, অসময়ে উৎপাত করে ত ? AtBR