প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আমি ছাড়া সংসার চলবে না ? চলবে না কেন মা, চলবে। হাল ভাঙ্গিয়া গেলে স্রোতের মুখে নৌকাখানি যেমন ক’রে চলে—এ ও তেমনি চলবে। কিন্তু, কাশী যাওয়া তাহার নিতান্ত প্রয়োজন। সেখানে তাহার বিধবা ননদিনী একমাত্র পুত্র লইয়া বাস করেন, তাহাকে একবার দেখিতে হইবে। কাশী যাইবার দিন সে প্রত্যেককে ডাকিয়া সংসারের ভার দিয়া গেল। বুড়ি দাসীকে ডাকিয়া, পিতা, দাদা ও প্রমীলাকে বিশেষরূপে দেখিবার জন্য অনুরোধ ও উপদেশ দিয়া দিল ; কিন্তু মাস্টারের কথা কাহাকেও কহিল না । ভুলিয়া যায় নাই—ইচ্ছা করিয়াই বলিল না। সম্প্রতি তাহার উপর একটু রাগ হইয়াছিল। মাধবী তাহার জন্য অনেক করিয়াছে, কিন্তু এমন কি সে একটা মুখের কথাতেও কৃতজ্ঞতা জানায় নাই। তাই মাধবী বিদেশে গিয়া এই অকৰ্ম্মণ্য সংসারানভিজ্ঞ উদাসীনটিকে জানাইতে চাহে যে, সে একজন ছিল। একটা কৌতুক করিতে দোষ কি ? সে না থাকিলে ইহার কেমনভাবে দিন কাটে, দেখিতে হানি কি ? তাই সে স্বরেন্দ্রের সম্বন্ধে কাহাকেও কিছু বলিয়া গেল না । স্বরেন্দ্রনাথ প্রবলেম্ সলভ করিতেছিল। প্রমীলা কহিল, কাল রাত্রে দিদি কাশী গিয়াছেন । কথাটা তাহার কানে গেল না। কিন্তু দিন দুই-তিন পরে যখন সে দেখিতে পাইল, দশটার সময় আহারের জন্য আর পীড়াপীড়ি হয় না,—কোনদিন বা একটদুইটা বাজিয়া যায়। স্নানাস্তে কাপড় ছাড়িতে গিয়া দেখে বোধ হয় সেগুলি আর তেমনি পরিষ্কার নাই, জলখাবারের থালাটা তেমন সযত্ন-সজ্জিত নহে। রাত্রে গ্যাসের চাবি কেহ বন্ধ করিতে আসে না, পড়ার ক্টোকে দুইটা-তিনটা বাজিয়া যায়। প্রাতঃকালে নিদ্রাভঙ্গ হয় না, উঠিতে বেলা হয়, সমস্ত দিন চোখের পাতা ছাড়িয়া ঘুম কিছুতেই যাইতে চাহে না। শরীর যেন বড় ক্লাস্ত হইয়া পড়িতেছে, তখন স্বরেন্দ্রনাথের মনে হইল, এ সংসারে একটু পরিবর্তন ঘটিয়াছে। গরম বোধ হইলে তবে লোকে পাখার সন্ধান করে। স্বরেন্দ্রনাথ পুস্তক হইতে মুখ তুলিয়া কহিল, প্রমীলা, বড়দিদি এখানে নাই, না ? সে বলিল, দিদি কাশী গিয়াছেন । তাই ত ! দিন-দুই পরে হঠাৎ প্রমীলার পানে চাহিয়া সে কহিল, বড়দিদি কৰে আসবেন? >{}o