পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ভিড়ের মধ্যে গাদাগাদি দাড়াইয়া হিন্দুস্থানী সিপাহীর তাহাকে সাহস দিতে লাগিল এবং এক-একটা অস্ত্র পাইলেই নামিয়া আসে, এমন জাভাসও দিল । বেশ করিয়া দেখিয়া ইন্দ্ৰ কহিল, দ্বারিকবার, এ বাঘ নয় বোধ হয় ? তাহার কথাটা শেষ হইতে না হইতেই সেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার দুই ধাব৷ জোড় করিয়া মান্বষের গলায় কাদিয়া উঠিল। পরিষ্কার বাঙলা করিয় কহিল, না বাবুর্মশাই, না। আমি বাঘ-ভালুক নই—ছিনাথ বউরূপী। ইন্দ্র হো-হো করিয়া হাসিয়া উঠিল । ভট্চাযিামশাই খড়ম হাতে সৰ্ব্বাগ্রে ছুটিয়া আসিলেন—হারামজাদা ! তুমি ভয় দেখাবার জায়গা পাও না ? পিসেমশাই মহাক্রোuধ হুকুম দিলেন, শালাকে। কান পাকাড়কে লাও ! কিশোরী সিং তাহাকে সৰ্ব্বাগ্রে দখিয়াছিল, সুতরাং তাহারই দাণী সৰ্ব্বাপেক্ষ। অধিক বলিয়া, সেই গিয়া তাহার কান ধরিয়া হিড় হিড় করিয়া টানিয়া আনিল। ভট্টাচাষ্যিমশাই তাহার পিঠের উপর খড়মের এক ঘা বসাইয়া দিয়া রাগের মাথায় হিনী বলিতে লাগিলেন, এই হারামজাদ। বজাতকে বাস্তে আমার গতর চূর্ণ হে। গিয়া। খোট্ট শালার ব্যাটারা আমাকে যেন কিলায়কে কাটাল *ांकांच्च ब्रिां - ছিনাতের বাড়ি বারাসতে । সে প্রতিবৎসর এই সময়টায় একবার করিয়া রোজগার করিতে আসে । কালও এ বাড়িতে সে নারদ সাজিয়া গাম শুমাইয়া গিয়াছিল। সে একবার ভট্চাযিামশায়ের, একবার পিসেমশায়ের পায়ে পড়িতে লাগিল। কহিল, ছেলেরা অমন করিয়া ভয় পাইয়া প্রদীপ উন্টাইয়া মহুমারী কাও বাধাইয়া তোলায় সে নিজেও ভয় পাইয়া গাছের আড়ালে গিয়া লুকাইয়াছিল। ভাবিয়াছিল একটু ঠাণ্ডা হুইলেই বাহির হইয়া তাহার সাজ দেখাইয়া যাইবে । কিন্তু ব্যাপার উত্তরোত্তর এমন হইয়া উঠিল যে, তাহার আর সাহসে কুলাইল না। ছিনাথ কাকুতি-মিনতি করিতে লাগিল ; কিন্তু পিসেমশায়ের আর রাগ পড়ে না । পিসীমা নিজে উপর হইতে কহিলেন, তোমাদের ভাগ্যি ভাল যে সত্যিকারের বাঘ-ভালুক বার হয়নি। যে বীরপুরুষ তোমরা, আর তোমার দারোয়ানরা। ছেড়ে দাও বেচারীকে, জার দূর করে দাও দেউড়ির ঐ খোট্টাগুলোকে ; একটা ছোট ছেলের যা পাহস, একবাড়ি লোকের তা নেই। পিসেমশাই কোন কথাই শুনিলেন না, বরং পিসীমার এই অভিযোগে চোখ পাকাইয়া এমন একটা ভাব ধারণ করিলেন যে, ইচ্ছা করিলেই তিনি এই সকল কথার যথেষ্ট সন্ধুত্তর দিতে পারেন, কিন্তু স্ত্রীলোকের কথার উত্তর দিতে যাওয়াই পুরুষমানুষের পক্ষে অপমান

  • *