পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৬৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আমরা জানি এই দুইটা কথাই সত্য। প্রথমটি স্বরেন্দ্রনাথের জন্য সত্য, দ্বিতীয়ট র্তাহার ম্যানেজার মথুরনাথবাবুর জন্য সত্য । স্বরেন্দ্রনাথের বৈঠকখানায় আজকাল খুব একদল ইয়ার বসিতেছে। তাহারা পরম-সুখে সংসারের সাধ মিটাইয়া লইতেছে। পান-তামাক, মদ-মাংস—কোন ভাবন তাহাদিগকে করিতে হয় না। চাহিতেও হয় না—আপনি মুখে আসে। ম্যানেজার মথুরবাবুর ইহাতে খুব উৎসাহ । খরচ যোগাইতে তিনি মুক্তহস্ত। কিন্তু, এজন্য জমিদারকে ক্ষতিগ্রস্ত হইতে হয় না ; তাহার শাসনগুণে প্রজারা সে ব্যয় বহন করে। মথুরবাবুর নিকট একটি পয়সা বাকি-বকেযা থাকিবার জো নাই। ঘর জালাইতে, ভিট-ছাড়া করিতে, কাছারি-ঘরের ক্ষুদ্র কুঠুরিতে আবদ্ধ করিতে র্তাহার সাহস এবং উৎসাহের সীমা নাই। প্রজার আকুল ক্ৰন্দন মাঝে মাঝে শাস্তি দেবীর কর্ণে প্রবেশ করে । সে স্বামীকে অম্বুযোগ করিয়া কহে, তুমি নিজে জমিদারি না দেখলে সব যে জলে-পুড়ে যায়। স্বরেন্দ্রনাথের যেন চমক ভাঙ্গে—তাই ত, তাই ত, এ-সব কথা কি সত্য ? সত্য নয় ? নিন্দায় যে দেশ ভরে গেল—তোমারই কানে কেবল এসব পৌছায় না । চব্বিশ ঘণ্টা ইয়ার নিয়ে বসে থাকলে কি এসব কেউ শুনতে পায় ? কাজ নেই অমন ম্যানেজারে, দূর করে তাড়িয়ে দাও। স্বরেন্দ্র দুঃখিত হইয়া, অপ্রতিভ হইয়া কহে, তাই ত, কাল থেকে আমি নিজে সব দেখব। তাহার পর কিছুদিন জমিদারি দেখিবার তাড়া পড়িয়া যায়। মথুরনাথ ব্যস্ত হইয়া উঠেন, গম্ভীরভাবে তখন কহেন, মুরেনবাবু, এমন করলে কি জমিদারি রাখতে পারবে ? মুরেন্দ্রনাথ শুষ্ক হাসি হাসিয়া কহে, দুঃখীর রক্ত শুষে এমন জমিদারিতে কাজ কি মথুরবাবু ? তবে আমাকে বিদায় দাও, আমি চলে যাই । স্বরেন্দ্রনাথ অমনি নরম হইয়া যায়। তাহার পর যাহা ছিল, তাহাই হয় । স্বরেন্দ্রনাথ বৈঠকখান হইতে আর বাহির হয় না। সম্প্রতি আবার একটা নূতন উপসর্গ জুটিয়াছে। বাগানবাটী প্রস্তুত হইয়াছে এবং তাহাতে নাকি এলোকেশী বলিয়া কে একটা মানুষ কলিকাতা হইতে আসিয়াছে। নাচিতে গাহিতে খুব মজবুত, দেখিতে-শুনিতেও মন্দ নয় । ভগ্নমধুচক্র মৌমাছির মত বৈঠকখানা ছাড়িয়া ঝাক বাধিয়া ইয়ারের দল সেই দিকে কুকিয়াছে। তাহাদের আনন্দ ও উৎসাহ রাখিবার স্থান নাই ; স্বরেন্দ্রনাথকেও তাহারা সেইদিকে টানিয়া লইয়া গিয়াছে। আজ তিনদিন হুইল—শাস্তির șos