প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ স্বরেন্দ্র সহসা প্রফুল্প হইয়া উঠিল—তাই চল । সেখানে বড়দিদি আছেন। শান্তি বলিল, তোমার বড়দিদিকে আমারও বড় দেখতে ইচ্ছে করে, তাকে আনবে ত ? মানব বই কি ! তাহার পর ঈষৎ ভাবিয়া বলিল, নিশ্চয় আসবেন, আমি মরে যাচ্ছি শুনলে শাস্তি তাহার মুখ চাপিয়া ধরিল—তোমার পায়ে পড়ি, আর ওসব বলে না। আহা, তিনি যদি আসেন ত আমার কোনো দুঃখই থাকে না । অতিমানে শাস্তির বুক পুড়িয়া গেল। এইমাত্র সে বলিয়াছিল, স্বামীর সে কেই নহে। স্বরেন্দ্র কিন্তু অত বুঝিল না । অত দেখিল না। যাহা বলিতেছিল, তাহাতে বড় আনন্দ হয়, কহিল, তুমি নিজে গিয়ে বড়দিদিকে ডেকে এনে, কেমন ? শাস্তি মাথা নাড়িয়া সম্মত দিল । তিনি এলে দেখতে পাবে, আমার কো ; কষ্ট থাকৃবে না। শাস্তির চক্ষু ফাটিয়া জল আসিতে লাগিল । পরদিন সে দাসীকে দিয়া মথুরবাবুকে সংবাদ প্রেরণ করল যে, বাগানবাটীতে যাহাকে আনা হইয়াছে, এখনি তাহাকে তাড়াইয়া না দিলে, তাহাকে আর ম্যানেজারের কাজ করিতে হইবে না। স্বামীকে শাসাইয়া বলিল, আর যষ্টি হোক, তুমি বাড়ির বা’র হ’লে আমি মাথা খুঁড়ে রক্তগঙ্গা হয়ে মরব । তাইত, ওঁরা কিন্তু— আমি কিন্তু'র ব্যবস্থা করছি। বলিয়া শাস্তি দাসীকে পুনর্বাবু ডাকিয়া হুকুম দিয়া দিল-দরোয়ানকে বলে দে, যেন ঐ হতভাগার আমার বাড়িতে না ঢুকতে পায় । আর স্ববিধা নাই দেখিয়া মথুরবাবু এলোকেশীকে বিদায় করিয়া দিলেন। ইয়ারদলও ছত্রভঙ্গ হইয়া পড়িল । তাহার পর তিনি চুটাইয়া জমিদারি দেখিতে মন দিলেন । n মুরেন্দ্রনাথের সম্প্রতি কলিকাতায় যাওয়া হইল না, বুকের ব্যথাট। আপাতত: কিছু কম বোধ হইতেছে । শাস্তির ও কলিকাতা যাইতে তেমন উৎসাহ নাই। এখানে থাকিয়া যতথানি সম্ভব, সে স্বামীদেবার আয়োজন করিতে লাগিল। কলিকাতা হইতে একজন বিজ্ঞ ডাক্তার আলাইয়া দেখাইল । বিজ্ঞ চিকিৎসক সমস্ত দেখিয়। শুনিয়া একটা ঔষধের ব্যবস্থা করিলেন এবং বিশেষ করিয়া সতর্ক করিয়া দিলেন যে, রক্ষের অবস্থা যেমন আছে, তাহাতে শারীরিক ও মানসিক কোনরূপ পরিশ্রমই সঙ্গত নহে । $●३.