প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীকান্ত কর ; তাই আরও গরম হইয়া হুকুম দিলেন, উহা ল্যাঙ্গ কাটিয়া দাও। তখন, তাহার সেই রঙিন-কাপড়-জড়ানো সুদীর্ঘ খড়ের ল্যাজ কাটিয়া লইয়া তাহাকে তাড়াইয়া দেওয়া হইল। পিসীমা উপর হইতে রাগ করিয়া বলিলেন, রেখে দাও। তোমার ওটা অনেক কাজে লাগবে । ইন্দ্র আমার দিকে চাহিয়া কহিল, তুই বুঝি এই বাড়িতে থাকিস্ শ্ৰীকান্ত ? আমি কহিলাম, হ্যা । তুমি এত রাত্তিরে কোথায় যাচ্চ ? ইন্দ্ৰ হাসিয়া কহিল, রাত্তির কোথায় রে, এই ত সন্ধ্যা । আমি ঘাচ্ছি আমার ডিঙিতে–মাছ ধ’রে আনতে। যাবি ? আমি সভয়ে জিজ্ঞাসা করিলাম, এত অন্ধকারে ডিঙিতে চড়বে ? সে আবার হাসিল । কহিল, ভয় কি রে । সেই ত মজা । তা ছাড়। অন্ধকার না হ’লে কি মাছ পাওয়া যায় ? সাতার জানিস ? খুব জানি । তবে আয় ভাই ! বলিয়া সে আমার হাতটা ধরিল । কহিল, আমি একলা এত স্রোতে উজোন বাইতে পারিনে –একজন কাউকে খুঞ্জি, যে ভয় পায় না। আমি আর কথা কহিলাম না। তাহার হাত ধরিয়া নিঃশব্দে রাস্তার উপর আসিয়া উপস্থিত হইলাম। প্রথমটা আমার নিজেরই যেন বিশ্বাস হইল না -আমি সত্যই এই রাত্রে নৌকায় চলিয়াছি। কারণ, যে আহ্বানে এই স্তব্ধ-নিবিড় নিশীথে এই বাড়ির সমস্ত কঠিন শাসনপাশ তুচ্ছ করিয়া দিয়া, একাকী বাহির হইয়া আসিয়াছি, সে যে কত বড় আকর্ষণ, তাহা তখন বিচার করিয়া দেখিবার আমার সাধ্যই ছিল না। অনতিকাল পরে গোসাইবাগানের সেই ভয়ঙ্কর বনপথের সম্মুখে আসিয়া উপস্থিত হইলাম এবং ইন্দ্রকে অনুসরণ করিয়া স্বপ্নাবিষ্টের মত তাহা অতিক্রম করিয়া গঙ্গার তীরে আসিয়া দাড়াইলাম । খাড়া কাকরের পাড় । মাথার উপর একটা বহু প্রাচীন অশ্বখবৃক্ষ মূৰ্ত্তিমান অন্ধকারের মত নীরবে দাড়াইয়া আছে এবং তাহারই প্রায় ত্রিশ হাত নীচে স্বচিভেদ্য আঁধার তলে পরিপূর্ণ বর্ষার গভীর জলস্রোত ধাক্ক ধাইয়া আবৰ্ত্ত রচিয়৷ উদ্ধাম হইয়া চুটিয়াছে। দেখিলাম সেইখানে ইন্দ্রের ক্ষুদ্র তরীখানি বাধা আছে। উপর হইতে মনে হইল, সেই মুতীব্র জলধারার মুখে একখানি ছোট্ট মোচার খোলা যেন নিরস্তর কেবলই আছাড় খাইয়া মরিতেছে । আমি নিজেও নিতান্ত ভীরু ছিলাম না। কিন্তু ইন্দ্র যখন উপর হইতে নীচে একগাছি রজ্জ্ব দেখাইয়া কহিল, ডিঙির এই ঘড়ি ধ’রে পা টিপে টিপে নেবে যা ; সাবধানে নাবিস, পিছলে পড়ে গেলে আর তোকে খুঁজে পাওয়া যাবে না ; তখন Ꮌ Ꮍ