প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৭৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বড়দিদি কাছে ৰাৰে । মাধবী নিজেও কয়েকবার এ কথা ভাবিতেছিল, কেননা, এখানকাৰ বাস যখন উঠিয়াছে, তখন কাশীবাদ ভিন্ন অন্য কোন উপায় নেই। মস্তোষের জন্য সে জমিদারের সহিত দেখা করিবে মনে করিয়াfছল, কিন্তু তাহ হয় নাই । পাড়া-প্রভিবাসীরা নিষেধ করিতেছে। তা ছাড়া এখন যেখানেই সে যাকৃ, একটা নূতন ভাবনা, একটা নূতন উপসর্গ হইয়াছে। সেটা এই রূপ-যৌবনের কথা ! মাধবী মনে করিল, পোড়াকপাল! এ উৎপাতগুলা কি এখন ৪ দেহটায় লাগিয়া আছে। আজ সাত বৎসর হইল, এগুলো তাহার মনে পড়ে নাই, মনে করাইয় দিতে কেছ ছিল না। স্বামী মরিবার পর যখন বীপের বাড়ি ফিরিয়া গেল, তখন সকলে ডাকিল, "বড়দিদি’, সবাই ডাকিল 'মা' ! এই সম্মানের ডাকগুলি তাহার মনকে আরও বুদ্ধ করিয়া দিয়াছিল। ছাই রূপ-যৌবন ! যেখানে তাহাকে বড়দিদির কাজ করিতে হইত, জননীর শ্বেহ-যত্ব বিলাষ্টতে হইত, দেখানে কি এসব কথা মনে থাকে ! মনে ছিল না, পড়িয়াছে, তাই ভাবনাও হইয়াছে। বিশেষ করিয়া এই ‘যৌবনের উল্লেখটা ? লজ্জায় মলিন হাসি হাসিয়া কহিল, এখানকার লোকগুলো কি অন্ধ, না পশু ! কিন্তু মাধবী ভুল করিয়াছিল—সকলেরই মন তাহার মত একুশ বাইশ বছরে বৃদ্ধ হইয়া যায় না । ইহার তিনদিন বাদে যখন জমিদারের পিয়াদা তাহার দ্বারপথে আসন করিয়া বসিল এবং হাক-ডাক করিয়া গ্রামবাসীকে জানাইতে লাগিল যে, স্বরেন রায় আর একটা নূতন কীর্তি করিয়াছে, তখন মাধবী সন্তোষের হাত ধরিয়া দাসীকে অগ্রবর্কিনী করিয়া নৌকায় উঠিয়া বসিল । । বাটীর অদূরেই নদী ; মাঝিকে কহিয়া দিল, সোমরাপুরে যাইতে হইবে। একবার প্রমীলাকে দেখিয়া যাইতে হইবে । গোলাগ হইতে পনর ক্রোশ দূরে সোমরাপুরে প্রমীলার বিবাহ হইয়াছিল। আজি এক বৎসর হইতে সে শ্বশুরঘর করিতেছে । সে হয়ত আবার কলিকাতায় যাইবে, কিন্তু মাধবী তখন কোথায় থাকিবে ? তাই একবার দেখা করা । * * সকালবেলা হুর্যোদয়ের সঙ্গে মাঝিরা নৌকা খুলিয়া দিল । স্রোতের মুখে নৌকা ভাসিয়া চলিল । বাতাস অমুকুল ছিল না, তাই ধীরমন্থর গমনে ক্ষুদ্র নৌকা বঁাশঝাড়ের ভিতর দিয়া, শিয়াকুল ও বেতঝোপের কাটা বঁাচাইয়া, শরঝাড় ঠেলিয়া ধীরে ধীরে চলিল। সন্তোষকুমারের আনন্দ ধরে না । সে ছইয়ের ভিতর হইতে হাত বাড়াইয়া গাছের পাতা ও ডগা ছি"fড়বার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল । মাঝিরা কহিল, বাতাস না থামিলে, কাল দুপুর পর্য্যন্ত নৌকা সোমরাপুরে লাগিবে না। $ఆa های ج- چ