পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৭৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আজ মাধবীর একাদশী, কিন্তু সন্তোষকুমারের জন্য কোথাও পান্সি বাধিয়া, পাক করিয়া তাহাকে খাওয়াইতে হইবে । মাঝি কহিল, দিস্তেপাড়ায় গঞ্জে নৌকা বঁধিলে বেশ সুবিধা হইবে, সেখানে সব জিনিস পাওয়া যায় । দাসী কহিল, তাই কর বাপু, যেন দশটা-এগারটার মধ্যে ছেলেটা খেতে পায় । নবম পরিচ্ছেদ কাৰ্ত্তিক মাস যায় যায় ! একটু শীত পড়িয়াছে, স্বরেন্দ্রনাথের উপরের ঘরে জানালার ভিতর দিয়। প্রাতঃস্থধ্যালোক প্রবেশ করায় বড় মধুর বোধ হইতেছে । জানালার কাছে অনেক গুলি বাধী-খাতা ও কাগজপত্র লইয়া টেবিলের এক পাশে স্বরেন্দ্রনাথ বiস ছিলেন আদায়-উমল, বাকী বকেয়া, জম-খরচ, বন্দোবস্ত, মামলা-মকদ্দমার নথীপত্র সব একে একে উণ্টাইয়া দেখিতেছিলেন । এসব দেখাশুনা একরকম আবশ্যকও হইয়া পড়িয়াছিল এবং না হইলে সময়ও কাটে না । শান্তির সহিত এ জন্য অনেকখানি ঝগড়া করিতে হইয়াছিল । অনেক করিয়া তবে তাহাকে সে বুঝাইতে পারিয়াছিল যে, অক্ষরের পানে চাহিলেই মামুষের বুকের दार्थ दff J . না, কিংবা তৎক্ষণাৎ ধরাধরি করিয়া তাহাকে বহিরে লইয়। যাইবার প্রয়োজন হয় না । অগত্য শান্তি স্বীকার করিয়াছে এবং আবগুকমত সাহায্যও করিতেছে । আজকাল স্বামীর উপর তাহার পুরা অধিকার—তাহার একটি কথাও অমান্য হয় না। কোন দিনই হয় নাই, শুধু পাচজন হতভাগা ইয়ার-বন্ধু মিলিয়। দিন-কতক শাস্তিকে বড় দুঃখ দিতেছিল । স্ত্রীর আদেশে স্বরেন্দ্রর বাহির-বাটতে পর্য্যস্ত যাওয়া নিষিদ্ধ হইয়াছে। ডাক্তার মহাশয়ের পরামর্শ ও উপদেশ শান্তি প্রাণপণে খাটাইয়া তুলিবার আয়োজন করিয়াছে। -- এইমাত্র সে কাছে বলিয়। রাঙা ফিতা দিয়া কাগজের বাগুিল বাধিতেছিল । স্বরেন্দনাথ একখানা কাগজ হইভে মুখ তুলিয়া সহসা ডাকিল, শাস্তি । শান্তি কোথায় গিয়াছিল—কিছুক্ষণে ফিরিয়া আসিয়া কহিল, ডাকছিলে ? ই, আমি একবার কাছারিঘরে যাব । না । কি চাই বল, আমি আনিয়ে দিচ্ছি। কিছুই চাই না, একবার মথুরবাবুর সঙ্গে দেখা করব । তাকে ডাকিয়ে পাঠাই, তোমাকে যেতে হবে না । কিন্তু এমন সময় তাকে কেন ?

$ ግቁ