পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ হইয়া গেল। এই অন্ধকারে এই ফাদের মধ্যে খুন করিয়া এই ক্ষেতের মধ্যে প্রতিষ্ঠা ফেলিলেই বা কে নিবারণ করিবে ? ইতিপূৰ্ব্বে পাঁচ-ছয় দিন ইন্দ্র ‘চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা সপ্রমাণ করিয়া নির্বিঘ্নে প্রস্থান করিয়াছে, এতদিন ধরা পড়িয়াও পড়ে নাই, কিন্তু আজ ? সে মুখে একবার বলিল, ভয় নেই। কিন্তু গলাটা তাহার যেন কঁাপিয়া গেল। কিন্তু লে থামিল না। প্রাণপণে লগি ঠেলিয়া ক্রমাগত ভিতরে লুকাইবার চেষ্টা করিতে লাগিল। সমস্ত চড়াটা জলে জলময় । তাহার উপর আট-দশ হাত দীর্ঘ ভুট্ট এবং জনারের গাছ। ভিতরে এই ছুটি চোর। কোথাও জল এক বুক, কোথাও এক কোমর, কোথাও হাটুর অধিক নয়। উপরে নিবিড় অন্ধকার, সম্মুখে পশ্চাতে দক্ষিণে বামে দুৰ্ভেদ্য জঙ্গল, পাকে লগি পুতিয়া যাইতে লাগিল, নৌকা আর একহাতও অগ্রসর হয় না। পিছন হইতে জেলেদের অস্পষ্ট কথাবাৰ্ত্তা কানে আসিতে লাগিল। কিছু একট। সন্দেহ করিয়াই যে তাহারা আসিয়াছে এবং তখনও খুজিয়া ফিরিতেছে, তাহাতে লেশমাত্র সংশয় নাই । সহসা নৌকাটা একটু কাত হইয়াই সোজা হইল। চাহিয়া দেখি, .আমি একাকী বসিয়া আছি, দ্বিতীয় ব্যক্তি নাই। স ভয়ে ডাকিলাম, ইন্দ্র ? হাত পাঁচ-ছয় দূরে বনের মধ্য হইতে সাড়া আসিল, আমি নীচে । নীচে কেন ? ডিঙি টেনে বের করতে হবে । আমার কোমরে দড়ি বাধা আছে। টেনে কোথায় বার করবে ? ও গঙ্গায় । খানিকটা যেতে পারলেই বড় গাঙে পড়ব । শুনিয়া চুপ করিয়া গেলাম। ক্রমশঃ ধীরে ধীরে অগ্রসর হইতে লাগিলাম। অকস্মাৎ কিছুদূরে বনের মধ্যে ক্যানেক্স পিটানো ও চেরা বাশের কটাকট শব্দে চমকাইয়া উঠিলাম। সভয়ে জিজ্ঞাসা করিলাম, ও কি তাই ? সে উত্তর দিল, চাষীরা মাচার উপর ব’লে বুনো গুয়ার তাড়াচ্চে । বুনো গুয়ার। কোথায় সে ? ইন্দ্র নৌকা টানিতে টানিতে তাচ্ছিল্যভরে কহিল, আমি কি দেখতে পাচ্ছি যে বলব ? অাছেই কোথাও এইখানে। জবাব গুনিয়া গুৰু হইয়া রছিলাম। ভাবিলাম, কার মুখ দেধিস্থা আজ প্রভাত হইয়াছিল। সন্ধ্যারাত্রে আজই ঘরের মধ্যে বাঘের হাতে পড়িয়াছিলাম। এ জঙ্গলে যে বুনে গুয়ারের হাতে পড়িব, তাহাতে আর বিচিত্র কি ? তথাপি আমি ত নৌকায় বসিয়া ; কিন্তু ঐ লোকটি একবুক কাজ ও জলের মধ্যে এই বনের ভিতরে। এক পা নড়িবার চড়িবার উপায় পৰ্য্যন্ত তাহার নাই। মিনিট পনর এইভাবে কাটিল। জার