পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐকাঙ্ক আসে, তত্ত্ব দিবিনে--বলবি, মূখে তোর ছাই দেব—ইচ্ছে হয় নিজে তুলে নিয়ে ৰা। খবরদার হাতে ক’রে দিতে যাস্নে ষেন, ঠিক আমি হলেও না,—খবরদার ! কেন ভাই ? ফিরে এসে বলব—খবরদার কিন্তু—, বলিতে বলিতে সে যেমন ছুটিয়া জালিয়াছিল, তেমনই ছুটিয়া দৃষ্টর বহির্ভূত হইয়া গেল। * . ; এইবার আমার পায়ের নখ হইতে মাথার চুল পৰ্য্যস্ত কাটা দিয়া খাড়া হইয়া উঠিল। বোধ হইতে লাগিল, যেন দেহের প্রতি শিরা-উপশিরা দিয়া বরফ-গলা জল বহিয়া চলিতে লাগিল। নিতান্ত শিশুটি নহি যে, তাহার ইঙ্গিতের মৰ্ম্ম অনুমান করিতে পারি নাই! আমার জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটিয়া গিয়াছে যাহার তুলনায় ইহ সমূদ্রের কাছে গোম্পদের জল । কিন্তু তথাপি, এই নিশ অভিযানের রাতটায় যে ভয় অনুভব করিয়াছিলাম, তাহা ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না। বোধ করি ভয়ে চৈতন্য হারাইবার ঠিক শেষ ধাপটিতে আসিয়াই পা দিয়াছিলাম। প্রতি মুহূর্তেই মনে হইতেছিল, পাড়ের ওদিক হইতে কে যেন উকি মারিয়া দেখিতেছে। যেমনি আড়চোধে চাই, অমৃনি সেও যেন মাথা নীচু করে। সময় আর কাটে না। ইন্দ্ৰ যেন কত যুগ চলিয়া গিয়াছে—জার ফিরিতেছে न' ! মনে হইল, যেন মানুষের কণ্ঠস্বর শুনিলাম। পৈতাটা বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠে শত-পাকে বেষ্টন করিয়া মুখ নীচু করিয়৷ উৎকর্ণ হইয়া রহিলাম। কণ্ঠস্বর ক্রমশ: স্পষ্টতর হইলে বেশ বুঝিলাম, দুই-তিনজন লোক কথাবাৰ্ত্তা বলিতে বলিতে এইদিকে আসিতেছে। একজন ইন্দ্র এবং আর অপর দুইজন হিন্দুস্থানী ! কিন্তু যে যাহাই হউক, তাহাজের মুখের দিকে চাহিবার আগে ভাল করিয়া দেখিয়া লইলাম, চন্দ্রালোকে তাহাজের ছায়। পড়িয়াছে কি না । কারণ, এই অবিসংবাদী সত্যটা ছেলেবেলা হইতেই জানিতাম যে, श्ॉ८भद्र छ्ॉब्रां पां८क नां । জাঃ-ঐ যে ছায়া ! অস্পষ্ট হউক তত্ত্বও ছায়া ! জগতে আমার মত সেদিন কোন মানুষ কোন বস্তু চোখে দেখিয়া কি এমন তৃপ্তি পাইয়াছে ! পাকৃ আর নাই পাক, ইহাকেই যে বলে দৃষ্টির চরম আনন্দ, এ কথা আজ আমি বাজি রাথিয়া বলিতে পারি। যাকৃ! যাহারা আসিল তাহারা অসাধারণ ক্ষিপ্রতার সহিত সেই বৃহদায়তন মাছগুলি নৌকা হইতে তুলিয়। জালের মত একপ্রকার বস্ত্রখণ্ডে বাধিয়া ফেলিল, এবং তৎপরিবর্তে ইন্দ্রের হাতে যাহা গুজিয়া দিল, তাহার একটা টং করিয়া একটুখানি মৃদ্ধ মধুর শস্ব করিয়া নিজেদের পরিচয়টাও আমার কাছে সম্পূর্ণ গোপন করিয়া গেল না ।