প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/২৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ইক্স নৌকা খুলিয়া দিল, কিন্তু স্রোতে ভাসাইল না । ধার ঘেঁৰিয়া প্রবাহের প্রতিকূলে লগি ঠেলিয়া ধীরে ধীরে অগ্রসর হইতে লাগিল। আমি কোন কথা কহিলাম না । কারণ আমার মন তখন তাহার বিরুদ্ধে ঘৃণায় ও কি-একপ্রকারের অভিমানে নিবিড়ভাবে পরিপূর্ণ হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু এইমাত্র না তাহাকেই চাদের আলোয় ছায়া ফেলিয়া ফিরিতে দেখিয়া অধীর আনন্মে ছুটির গিয়া জড়াইয়া ধরিবার জন্য উন্মুখ হইয়া উঠিয়াছিলাম! ই, তা মানুষের স্বভাবই ত এই ! একটুখানি দোষ পাইলে পূৰ্ব্ব-মূহুর্তের সমস্তই নিঃশেষে ভুলিয়া যাইতে তাহার কতক্ষণ লাগে ? ছিঃ ! ছিঃ ! এমৃনি করিয়া সে টাকা সংগ্ৰহ করিল ? এতক্ষণ এই মাছ-চুরি ব্যাপারটা আমার মনের মধ্যে বেশ স্পষ্ট চুরির আকারে বোধ করি স্থান পায় নাই। কেননা ছেলেবেলায় টাকাকড়ি চুরিটাই শুধু যেন বাস্তবিক চুরি ; আর সব—অন্যায় বটে—কিন্তু কেমন করিয়া যেন সে-সব ঠিক চুরি নয়—এমৃনিই একটা অদ্ভূত ধারণা প্রায় সকল ছেলেরই ৰাকে । আমারও তাই ছিল । না হইলে, এই ‘টং’ শব্দটি কানে যাইবামাত্র এতক্ষণের এত বীরত্ব, এত পৌরুষ, সমস্তই একমুহূৰ্ত্তে এমন শুক্ষ তৃণের মত ঝরিয়া পড়িত না । সে যদি মাছগুলা গঙ্গার জলে ফেলিয়া দিত, কিংবা —আর বাহাই করুক, শুধু টাকাকড়ির সহিত ইহার সংস্রব না ঘটাইত, তাহা হইলে আমাদের এই মৎস্যসংগ্রহের অভিযানটিকে কেহ চুরি বলিলে ক্রোধে বোধ করি তাহার মাথাটাই ফাটাইয়া দিতাম এবং সে তাহার ন্যায্য প্রাপ্য পাইয়াছে বলিয়াই মনে করিতাম। কিন্তু ছিঃ, ছিঃ ! এ কি ! এ কাজ ত জেলখানার কয়েদীরা করে । ইন্দ্র কথা কহিল, জিজ্ঞাসা করিল, তুই একটুও ভয় পাসনি, না রে ঐকাস্ত ? আমি সংক্ষেপে জবাব দিলাম, না। ইন্দ্ৰ কহিল, কিন্তু তুই ছাড়া ওখানে আর কেউ বসে থাকতে পারত না, তা জানিস ? তোকে আমি খুব ভালবাসি—আমার এমন বন্ধু আর একটিও নেই। আমি ৰখন আস্ব, তোকে শুধু ডেকে আনব, কেমন ? আমি জবাব দিলাম না। কিন্তু এই সময়ে তাহার মুখের উপর সদ্য মেঘমুক্ত যে চাদের আলোটুকু পড়িল তাঁহাতে মুখখানি কি যে দেখাইল, আমি এতক্ষণের সব রাগ অভিমান হঠাৎ ভুলিয়া গেলাম। জিজ্ঞাসা করিলাম, আচ্ছ ইন্দ্র, তুমি কখনো ঐ সব দেখেচো ? কি সব ? ঐ যারা মাছ চাইতে আসে ? না ভাই দেখিনি—লোকে বলে, তাই শুনেচি ? ቘቖ