প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৫৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চন্দ্রনাথ হয় নাই,-তৰু তাহার আসা অবধি দুই জনের মনে মনে যুদ্ধ বাধিয়াছে। প্রাণপণ করিয়াও হরকালী জয়ী হইতে পারে না। এক ফোট মেয়ের শক্তি দেখিয়া হরকালী মনে মনে অবাক হয়। বাহিরের লোক এ কথা জানে না যে, এই অন্তর-যুদ্ধে সরযু ডিক্রি পাইয়াছে, কিন্তু তাহা জারি করে নাই। নিজের ডিক্রি নিজে তামাদি করিন্থ। বিজিত অংশ ঙাহাকেই সে ফিরাইয়া দিয়াছে, এবং এইখানেই হরকালীর.একেবারে হার হইয়াছে। হরকালী বুঝিতে পারে, সরযু বোবা কিম্বা হাবা নহে। অনেকগুলি শক্ত কথারও সে এমন নিরুত্তর অবনতমুখে উত্তর দিতে সমর্থ যে, হরকালী একেবারে স্তম্ভিত হইয়া যায়, কিন্তু না পারিল সে এই মেয়েটির সহিত সন্ধি করিতে, না পারিল তাহাকে জয় করিতে। সরযু যদি কলহ-প্রিয় মুখরা হইত, স্বার্থপর নির্দয় হইত, তাহ হইলেও হরকালী হয় ত পথ খুজিয়া পাইত। কিন্তু সরযু নিজে এতখানি করুণা তাহাকে দিয়া রাখিয়াছে যে, হরকালী অপরের করুণা ভিক্ষা করিবার আর অবকাশ পার না। সরযূ অস্তরে সম্পূর্ণ বুঝিতে পারে যে, এ বাটীর সে-ই সৰ্ব্বময়ী কত্রী,হরকালী কেহ না, তাই বাহিরে সে কেহ না হইয়া হরকালীকেই সৰ্ব্বময়ী করিয়াছে। ইহাতেই হরকালী আরও ঈর্ষায় জলিয়া-পুড়িয়া মরে । শুধু একটি স্থান সরযু একেবারে নিজের জন্য রাখিয়াছিল, এখানে হরকালী কিছুতেই প্রবেশ করিতে পায় না। স্বামীর চতুপাশ্বে সে এমন একটি সূক্ষ্ম দাগ টানিয়া রাখিয়াছে যে, তাহার ভিতরে প্রবেশ না করিতে পারিলে আর কেহ চন্দ্রনাথের শরীরে আঁচড়টিও কাটিতে পারে না । এই দাগের বাহিরে হরকালী যাহা ইচ্ছা করুক, কিন্তু ভিতরে আসিবার অধিকার ছিল না। বুদ্ধিমতী হয়কালী বেশ বুঝিতে পারে যে, এই এক ফোটা মেয়েটি কোন এক মায়া-মন্ত্রে তাহার নখদন্তের সমস্ত বিষ হরণ করিয়া লইয়াছে। এমনি করিয়া দীর্ঘ ছয় বৎসর গত হইল। সে এগার বছর বয়সে স্বামীর ঘর করিতে আসিয়াছিল, সতেয়োয় পড়িল । \p፬ግ