প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিষ্ঠা-সংগ্ৰহ কৱিত ; তাহা ছাড়া, এত অধিক রূপ-যৌবন লইয়া নরকের পথও দুরূহু নহে – তাহা হইলে ? এই কথাটা মনে উঠিলেই চন্দ্রনাথ গভীর করুণায় সরযুর লজ্জিত মুখখানি তুলিয়া ধরিয়া জিজ্ঞাসা করিত, আচ্ছা সরযু, আমি যদি তোমাকে না দেখতুম, যদি বিয়ে ন৷ করতুম, এতদিন তুমি কার কাছে থাকতে বল ত ? সরযু জবাব দিত না ; সভয়ে স্বামীর বুকের কাছে সমিয়া আসিত । চন্দ্রনাথ সস্নেহে তাহার মাথার উপর হাত রাখত। যেন সাহস দিয়া মনে মনে বলিত, ভয় কি ! সরযু আরও কাছে সরিয়া আসি ও এসব কথায় সত্যি সে বড় ভয় পাইত। চন্দ্রনাথ ৩াহা বুঝিতে পারিয়াই যেন তাহাকে বুকের কাছে টানিয়া লইয়া বলিত, তা নয়, সবযু তা নয়। তুমি দুঃখীর ঘরে গিয়ে কেন জন্মেছিলে, জানিনে ; কিন্তু তুমিই আমার জন্ম-জন্মাস্তরের পতিব্ৰতা স্ত্রী ! তুমি সংসারের যে-কানো জায়গায় ব’পে টান দিলে আমাকে যেতেই হ’ত তামার আকর্ষণেই যে আমি কাশী গিয়েছিলুম, সরযু ! এই সময় তাহার হৃদয়ের ভিতর দিয়া যে ভাবের স্রোত বহিয়া যাইত, সরযুর সমস্ত স্নেহ, প্রেম, যত্ন, ভক্তি এক করিলেও বোধ করি তাহার তুলনা হইত না। কিন্তু তৎসত্ত্বেও দুঃখীকে দয়া করিয়া যে গৰ্ব্ব, যে তৃপ্তি, বালিকা সরযুকে বিবাহ করিবার "াময় একদিন আত্মপ্রসাদের ছদ্মবেশে চন্দ্রনাথেব নিভূত-অস্তরে প্রবেশ করিয়াছিল, এখন শত চেষ্টাতেও চন্দ্রনাথ তাহার সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করিতে পারে না। হৃদয়ের এক অজ্ঞাত অন্ধকার কোণে আজও এস বাসা বাধিয়া আছে। তাই, যখনই সেটা মাথা তুলিয়া উঠিতে চায়, তখনই চন্দ্রনাথ সরযুকে বুকে চাপিয়া বার বার বলিতে থাকে, আমি বড় আশ্চৰ্য্য হই সরযু, যাকে চিরদিন দেখে এসেচ, তাকে আজও তোমার চিনতে বিলম্ব হচ্চে ! আমি ৩ তামাকে কাশীতে দেখেই চিনেছিলুম, তুমি আমার ! কত যুগ, কত কল্প, কত জন্ম-জন্ম ধ’রে আমার ! কি জানি, কেন আলাদা হয়েছিলুম, আবার এক হয়ে মিলতে এসেটি । e সরযু বুকের মধ্যে মুখ লুকাইয়া মৃদুকণ্ঠে কহে, কে বললে, আমি তোমাকে চিনতে পারিনি । উৎসাহের আতিশষ্যে চন্দ্রনাথ সরযুর লজ্জিত মুখখানি নিজের মুখের কাছে তুলিয়া ধরিয়া বলে, পেরেচ ? তবে কেন এত ভয়ে-ভয়ে থাক ? আমি ত কোন দুৰ্ব্ব্যবহার করিনে-আমি ষে আমার নিজের চেয়েও তোমাকে ভালবাসি, সরযু। সরযু আবার স্বামীর বুকের মধ্যে মুখ লুকাইয়া ফেলে। চন্দ্রনাথ আবার প্রশ্ন