প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্ৰহ আবার অনেকক্ষণ নিঃশব্দে কাটিল। ভিতরের গোলমাল ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাইতেছে দেখিয়া দয়ালঠাকুর উঠিয়া দাড়াইলেন। খুড়ে, একটু ব’ল, আমি দেখে আসি । খুড়া তাহার ক্টোচার টিপ এক হাতে ধরিয়া কহিলেন, এবার যে দাবী চাপ গেল । দয়ালঠাকুর পুনর্বার বধিয়া পড়িলেন। কিন্তু গোলমাল কিছুতেই থামে না। তখন দয়ালঠাকুর অগত্যা উঠিয়া পড়িলেন। প্রাঙ্গণে আসিয়া দেখিলেন, স্থলোচনা দুই হাতে সেই লোকটার পা জড়াইয়া আছে এবং সে উত্তরোত্তর চাপা-কণ্ঠে কহিতেছে, আমার কথা রাখ, না হ’লে যা বলছি তাই করব । স্কুলোচনা কাদিয়া বলিতেছে, আমায় মার্জন কর। তুমি একবার সর্বনাশ করেছ, যা-একটু বাকী আছে, সেটুকু আর নাশ কোরো না । সে কহিতেছে, তোমার মেয়ে বড়লোকের ঘরে পড়েছে, দু'হাজার টাকা দিতে পারে না ? আমি টাকা পেলেই চলে যাব। স্থলোচনা কহিল,তুমি মাতাল, অসচ্চরিত্র।—দু'হাজার টাকা তোমার কত দিন ? তুমি আবার আসবে, আবার টাকা চাইবে,—আমি কিছুতেই তোমায় টাকা দেব না । আমি মদ ছেড়ে দেব । ব্যবসা করব –আর কখনও তোমার কাছে টাকা চাইতে আসব না । স্বলোচনা সে কথার উত্তর না দিয়া ভূমিতলে মাথা খুড়িয়া যুক্ত-করে কহিল, দয়া কর—টাকার জন্য আমি সরযুকে অনুরোধ করতে পারব না। দয়ালঠাকুর যে নিকটে আসিয়া দাড়াইয়াছেন, তাহ কেহই দেখে নাই, তাই এ-সব কথা জোরে জোরেই হইতেছিল । দয়ালঠাকুর এইবার কাছে আসিয়া দাড়াইলেন। সহসা দুইজনেই চমকিত হইল—দয়ালঠাকুর এই অপরিচিত লোকটার নিকটে আসিয়া কছিলেন, তুমি কার অনুমতিতে বাড়ির ভিতরে ঢুকেছ ? লোকটা প্রথমে খতমত খাইয়া দাড়াইয়। রহিল, তারপর যখন বুঝিল, কাজটা তেমন আইন-সঙ্গত হয় নাই, তখন সরিয়া পড়িবার উপক্রম করিল। কঠিন মুষ্টিতে হরিদয়াল তাহার হাত ধরিয়া উচ্চকণ্ঠে পুনৰ্ব্বাপ্প কহিলেন, কার অনুমতিতে ? পলাইবার উপায় নাই দেখিয়া সে সাহস সঞ্চয় করিয়া বলিল, স্থলোচনার কাছে এসেছি । তাহার মুখ দিয়া তীব্র স্বরার গন্ধ বাহির হইতেছে, এবং সৰ্ব্বাঙ্গে হীনতা এবং Վի{: Յ