প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ কিছুতেই না। এক ব্যাটা বদমায়েপ—মাতাল—সে ভয় দেখিয়ে তোমার কাছে টাকা আদায় করবে, আর এক ভদ্র-সন্তানের কাছে টাকা আদায় করবে, আর তুমি তার সাহায্য করবে ? কিন্তু না করলে যে আমার সর্বস্ব যায় । একজনও যজমান আসবে না । আমি খাব কি ক’রে.? কৈলাস বলিলেন, সে ভয় কোরো না । আমি সরকার বাহাদুরের কল্যাণে বিশ টাকা পেন্সন পাই, খুড়োভাইপোর তাতেই চলে যাবে। আমরা খাব, আর দাবা খেলব, ঘর থেকে কোথাও বেরোব না । বিরক্ত হইলেও এরূপ বালকের মত কথায় হরিদয়াল হাসিয়া বলিলেন, খুড়ো, আমার বোঝা তুমিই বা কেন ঘাড়ে নেবে, আর আমিই বা কেন পরের হাঙ্গামা মাথায় বয়ে জাত-ধৰ্ম্ম খোয়াব ?—তার চেয়ে— কৈলাস বলিলেন, ঠিক ত। তার চেয়ে তাদের নাম-ধাম-ঠিকানা ব’লে দিয়ে একজন দরিদ্র বালিকাকে তার স্বামী, সংসার, সম্মান, সমস্ত হ’তে বঞ্চিত ক’রে এই বুড়ো হাড়-গোড়গুলো ভাগাড়ের শিয়াল-কুকুরের গ্রাস থেকে বাচাতেই হবে। বঁাচাও গে বাবাজী, কিন্তু আমাকে বলতে এসে ভাল করনি। তবে যখন মতলব নিতেই এসেছ, তখন আর একটা কথা বলে দিই। vকাশীধাম মা অন্নপূর্ণার রাজত্ব। এখানে বাস ক’রে র্তার সতী মেয়েদের পিছনে লেগে মোটের উপর বড় স্ববিধা হবে না বাবা । হরিদয়াল ক্রুদ্ধ হইয়া বলিলেন, খুড়ো কি এবার শাপ-সম্পাত কর্চ ? না। তোমরা কাশীর পাগু, স্বয়ং বাবার বাহন, আমাদের শাপ-সম্পাত তোমাদের লাগবে না—সে ভয় তোমার নেই-কিন্তু যে কাজে হাত দিতে যাচ্চ, বাবা, সে বড় নিরাপদ জিনিস নয়। সতী-সাবিত্রীকে যমেও ভয় করে । সেই কথাটাই মনে করিয়ে দিচ্চি। অনেকদিন একসঙ্গে দাবা খেলেচি– তোমাকে ভালও বাসি। হরিদয়াল জবাব দিলেন না, মুখ কালি করিয়া উঠিয়া দাড়াইলেন। কৈলাস বলিলেন, বাবাজী, কথাটা তা’হলে রাখবে না ? হরিদয়াল বলিলেন, পাগলের কথা রাখতে গেলে পাগল হওয়া দরকার। কৈলাস চুপ করিয়া রহিলেন, হরিদয়াল বাহির হইয়া গেলেন। কৈলাস দাবার পুটলিট টানিয়া লইয়া গ্রন্থি বাধিতে বাধিতে মনে মনে ভাবিলেন, বোধ করি ওর কথাই ঠিক। আমার পরামর্শ হয়ত সংসারে সত্যই চলে না। মাছুষ মরিলে লোকাভাব হইলে কেহ কেহ ডাকিতে আসে-দাহ Vడిఱసి