প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ভাগ্যদেবতা ধেদিকে \ মুখ ফিরাইলে তাহারা অত্যন্ত দুঃখের সহিত আহ’ বলিবে, সেই পরম দুঃখের চিত্রটি যেন তাহারা দেখিতে পায়। আজ দুইদিন ধরিয়া উৎকণ্ঠায় তাহাদের নিদ্রা হয় না। ক্রমে এক সপ্তাহ অতীত হইয়া গেল। এই রাতদিন শুধু ধুয়া হইয়াছে, আগুন জলে নাই-কথাটা শুধু মেয়েদের মধ্যে বাধাপ্রাপ্ত স্রোতের মত ঘুরিয়া ঘুরিয়া আসিয়াছে গিয়াছে, অথচ দু’কুল ভাসাইয়া বহিতে পারে নাই। পুরুষের দলেও একথা উঠিয়াছিল, কিন্তু তাহা অল্প সময়ের জঙ্ক । তাহাদিগের চন্দ্রনাথেব জাতি মারা ভিন্ন আরও কাজ আছে, সংসারের ভার বহন করিতে হয়—একেবারে পা ছড়াইয়া দিয়া অনেকক্ষণের জন্য বসিবার সময় পায় না, তাই কথাটা মীমাংসা হইবার পূৰ্ব্বেই দল ভাঙ্গিয়া যায়। তবে কথাটা যদি ছোট হইত, চন্দ্রনাথ দরিদ্র হইত, তাহা হইলে বোধ করি যেমন তেমন মীমাংসা হইলেও হইতে পারিত, কিন্তু এরূপ স্থলে কেহই প্রকাশুভাবে দলপতি সাজিয়া চন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে দাড়াইতে সাহস করিল না। যে পারিত, সে মণিশঙ্কর। কিন্তু কেন বলিতে পারি না, তিনি একেবারেই কোন কথা উত্থাপন করেন না। তখন পাড়ার বর্ষীয়সী বিধবা ও সধবার দল কৰ্ত্তব্য-কৰ্ম্মে মন দিলেন। র্তাহার। নিরপরাধ ব্রজকিশোর ও র্তাহার পত্নী হরকালীর ধৰ্ম্ম ও জাত বাচাইবার পবিত্র বাসনায় নিতান্তু দুঃখের সহিত জানাইয়া দিয়া গেলেন ধে, ইহা নিঃসন্দেহে প্রমাণ হইয়া গিয়াছে যে, বধুমাতা সরযুর মা একজন কাশীবাসিনী বেঙ্গ, স্বতরাং তাহার কস্তার স্পর্শিত পান-ভোজনাদি ব্যবহারে তাহাদের উভয় স্ত্রী-পুরুষেরই জাত এবং ধৰ্ম্মনাশ হইয়াছে। প্রথমটা হরকালী বিহালের মত চাহিয়া রহিলেন, তাহার পরে বলিলেন, কি হয়েছে ? রামময়ের যুদ্ধা জননী ফোস করিয়া নিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, আর কি হবে বড়গিল্পী, যা হবার তাই হয়েছে—সৰ্ব্বনাশ হয়েছে । এই বলিয়া তিনি কাহিনীটা আর.একবার আগাগোড়া বিবৃত করিয়া গেলেন। বলিবার সময় অল্পম্বর ভুল-ভ্রাভি যাহা ঘটিল তাহ আর পাচজনে সংশোধন করিয়া দিল। এইরূপে হরক্ষাঙ্গী হৃদয়ঙ্গম করিলেন, সত্যই সৰ্ব্বনাশ ঘটিয়াছে। কিন্তু সেটা কতটা তাহার নিজের এবং কতটা আর একজনের, সেই কথাটাই বেশ করিয়া অনুভব করিতে তিমি নিঃশব্দে উঠিয়া গিয়া নিজের ঘরের মধ্যে দ্বার বন্ধ করিলেন। যাহার ভাল করিতে আসিয়াছিলেন, তাহারা ভাল করিলেন কি মন করিলেন, ঠিক বুঝিতে ন পারিয়া হতবুদ্ধি হইয়া চিন্তিত-বিমৰ্ধমুখে একে একে সরিয়া পড়িলেন। নিকৃত ঘরের মধ্যে আসিয়া হরকালীর আশঙ্কা হইল, তাহার দক্ষ জব্‌ষ্টে এভবড় ৩৬৪