পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৮১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


छटैनॉर्थ ই্যা মামীম, লিখে দিই। সরযু কলম লইয়া পরিষ্কার করিয়া নিজের নাম সই করিয়া দিল । আজই দোশরা আশ্বিন—সরযুর চলিয়া যাইবার দিন। প্রাতঃকাল হইতে ঝড় বৃষ্টি পড়িতেছিল, হরকালী চিন্তিত হইয়া পড়িলেন, পাছে যাওয়া না হয়। . সমস্ত দিন ধরিয়া সরযু ঘরের দ্রব্য-সামগ্ৰী গুছাইয়। রাখিতেছিল । মূল্যবান বস্ত্রাদি একে একে আলমারীতে বন্ধ করিল। সমস্ত অলঙ্কার লৌহসিন্দুকে পুরিয়া চাবি দিল, তাহার পর স্বামীকে ডাকিয়া আনিতে লোক পাঠাইয়া দিয়া নিজে ভূমিতলে পড়িয়া অনেক কান্না কাদিল। গৃহত্যাগের সময় যত নিকটে আসিতেছে, ক্লেশ তত অসহ্য হইয়া উঠিতেছে। এই সাতদিন যেভাবে কাটিয়াছিল, আজ সেভাবে কাটিবে বলিয়া মনে হইতেছে না। তাহার শঙ্কা হইল, পাছে এই শেষ দিনটিতে ধৈর্য চুতি ঘটে, যাইবার সময় পাছে নিতান্ত তাড়িত ভিক্ষুকের মত দেখিতে হয় । আত্মসন্মানটুকু সে প্রাণপণে জড়াইয়া ধরিয়াছিল ; সেইটুকুকে ত্যাগ করিতে কিছুতেই তাহার প্রবৃত্তি হইল না। চন্দ্রনাথ আসিলে সে চোখ মুছিয়া উঠিয়া বসিল। বলিল, এস, আজ আমার যাবার দিন । তখনও তাহার চক্ষুর পাতা আর্দ্র রহিয়াছে। চন্দ্রনাথ আর একদিকে চাহিয়া বসিয়া রহিল। সরযু কাছে আসিয়া বলিল, এই চাবি নাও। যত দিন আর বিয়ে না কর, ততদিন অপর কাকেও দিও না । চন্দ্রনাথ রুদ্ধস্বরে কহিল, যেখানে হয় রেখে দাও । সরযু হাত টানিয়া চন্দ্রনাথের মুখ ফিরাইয়া ধরিয়া ঈষৎ হাসিয়া বলিল, কাদব চেষ্ট করুচ ? '. চন্দ্রনাথের মনে হইল কথাটা বড় শক্ত বলা হইয়াছে । সরযু তখনই তাহার চক্ষু মুছাইয়া দিয়া আদর করিয়া বলিল, মনে ক’রে দেখ কোন দিন একটা পরিহাস করিনি, তাই যাবার দিনে আজ একটা তামাসা করলাম, রাগ করে না । তাহার পর কহিল, যা-কিছু ছিল, সমস্ত বন্ধ করে আলমারীতে রেখে গেলাম, দেখো মিছামিছি আমার একটি জিনিসও যেন নষ্ট না হয়। চন্দ্রনাথ চাহিয়া দেখিল, নিরাভরণা সরযুর হাতে শুধু চার-পাচ গাছি কাচের চুড়ি ছাড়া আর কিছু নাই। সরযুর এ মূৰ্ত্তি তাহার দুই চোখে শূল বিদ্ধ করিল, কিন্তু কি বলিবে সে ? আজ দুখানা অলঙ্কার পরিয়া যাইবার প্রস্তাব করিয়া কি করিয়া সে এই দেবীর প্রতিমূৰ্ত্তিটিকে অপমান করিবে । সরযু গলার আঁচল দিয়া প্ৰণাম করিয়া পদধূলি মাথায় তুলিয়া লইয়া বলিল, আমি যাচ্চি বলে অনর্থক দুঃখ কোরে না, এতে তোমার হাত নেই, আমি তা জানি । 4 דסי