পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৮২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ চন্দ্রনাথ এতক্ষণ পর্য্যস্ত সহ করিয়াছিল, আর পারিল না, ছুটিয়া পলাইয়া গেল। সন্ধ্যার পূৰ্ব্বে গাড়ির সময়। স্টেশনে যাইতে হইবে। বৃষ্টি আদিতেছে, বাটার বৃদ্ধ সরকার দুই-একখানি কাপড় গামছায় বাধিয়া কোচমানের কাছে গিয়া বসিল । সেই সীতাদেবীর কথা বোধ করি তাহার মনে পড়িয়াছিল, তাই চোখের জলও বড় প্রবল হইয়া গড়াইয়া পড়িতেছিল। চক্ষু মুছিয়া মনে মনে কহিল, ভগবান, আমি ভৃত্য, তাই আজ আমার এই শাস্তি । যাইবার সময় সরযু হরকালীর মনের ভাব বুঝিয়া ভাকিয়া প্রণাম করিল। পদধূলি গ্রহণ করিয়া বলিল, মামীম, বাক্সটা একবার দেখ । - হরকালী অপ্রতিভ হইলেন—না না, থাক ,—ততক্ষণে কিন্তু টিনের বাক্স উন্মোচিত হইয়া হরকালীর দৃষ্টি আকর্ষণ করিল। লোভ সংবরণ করা অসম্ভব। বক্ৰদূষ্টিতে তিনি দেখিলেন, ভিতরের দুই-এক জোড়া সাধারণ বস্ত্র, দুই-তিনটা পুস্তক, কাগজে আবৃত দুইখানা ছবি, আরও দুই-একটা কি কি রহিয়াছে। সরযু কহিল, শুধু এই আছে । হরকালী ধীরে ধীরে সরিয়া গেলেন। সন্ধ্যার পূর্বেই সরযু গাড়িতে উঠিয়া বসিল । কোচমান গাড়ি হাকাইয় ফটক বাহিয়া দ্রুত ছুটিয়া বাহির হইয়া পড়িল । দ্বিতলের জানালা খুলিয়া মণিশঙ্কর তাহা দেখিলেন । আজ র্তাহার হঠাৎ মনে হইল, বুঝি কাজটা ভাল হইল না । একাদশ পরিচ্ছেদ সমস্ত রাত্রি মণিশঙ্কর ঘুমাইতে পারিলেম না। সারারাত্রি ধরিয়াই তাহার দুই কানের মধ্যে একটা ভারী গাড়ির গভীর আওয়াজ গুম্‌ গুম্‌ শব্দ করিতে লাগিল। প্রত্যুধেই শয্যা ত্যাগ করিয়া বাহিরে আসিলেন। দেখিলেন, গেটের উপর একজন অপরিচিত লোক দীনবেশে অৰ্দ্ধ-সুপ্তাবস্থায় বসিয়া আছে। কাছে যাইতেই লোকট। উঠিয় দাড়াইয়া বলিল, আমি একজন পথিক । মণিশঙ্কর চলিয়া যাইতেছিলেন, সে পিছন হইতে ডাকিল, মণিশঙ্করবাবুর বাড়ি কি এই ? তিনি ফিরিয়া বলিলেন, এই ৷ র্তাহার সহিত কখন দেখা হ’তে পারে, ব’লে দিতে পারেন ? আমারই নাম মণিশঙ্কর। লোকটা সসন্ত্রমে নমস্কার করিয়া বলিল, আপনার কাছেই এসেছি। ৩৭৬