প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মত স্থানে তোমাদের স্থানাভাব হয় না। স্থবিধামত একটা খুঁজে নিয়ে। তিনি নাকি বড় জালায় জলিতেছিলেন, তাই এমন কথাটাও কহিতে পারিলেন। সরযুর স্বামী তাহাকে গৃহে স্থান দেন নাই, হরিদয়াল দিবেন কেন ? ইহাতে র্তাহাকে দোষ দিবার কিছু নাই, সরযু তাহা বুঝিল । কিন্তু তাহারও যে আর দাড়াইবার স্থান নাই। স্বামীর গৃহে দু’দিনের আদর-যত্বে অতিথির মত গিয়াছিল—এখন বিদায় হইয়া আসিয়াছে। এ সংসারে সেই যত্ন-পরামুণ গৃহস্থ আর ফিরিয়া দেখিবে না অতিথিটি কোথায় গেল। বড় যাতনায় তাহার নীরব-অশ্রু গগু বাহিয়া পড়িতেছিল । এই তাহার ষোল বছর বয়স,—তাহার সব সাণ ফুরাইয়াছে। মাতা নাই, পিতা নাই, স্বামী পরিত্যাগ করিয়াছে। দাড়াইবার স্থান নাই, আছে শুধু কলঙ্ক, লজ্জা আর বিপুল রূপর্যৌবন। এ নিয়ে বাচ চলে, কিন্তু সরযুর চলে না। সে ভাবিতেছিল, তাহার কত আয়ু, আর কতদিন বাচিতে হইবে । যতদিন হউক, আজ তাহার নূতন জন্মদিন। যদিও দুঃখ-কষ্টের সহিত তাহার পূৰ্ব্বেই পরিচয় ঘটিয়াছে, কিন্তু এরূপ তীব্র অপমান এবং লাঞ্ছনা কবে সে ভোগ করিয়াছে ? দয়ালঠাকুর উত্তরোত্তর উত্তেজিত-কণ্ঠে কথা কহিতেছিলেন, এবার চীংকার করিয়া উঠিলেন, ব'সে রইলে যে ? সরযু আকুলভাবে জিজ্ঞাসা করিল, কোথায় যাব ? আমি তার কি জানি ? সরষু রুদ্ধকণ্ঠে বলিল, দাদামশাই, আজ রাত্ৰি— দূর দূর, একদওও না। এবার সরযু উঠিয়া দাড়াইল । চকিতে মনে একটু সাহস হইল, মনে করিল, যাহার কাছে শত অপরাধেও ভিক্ষা চাহিবার অধিকার ছিল, তাহার কাছেই যখন চাহি নাই, তখন পরের কাছে চাহিব কি জন্য ? মনে মনে বলিল, আর কিছু না থাকে, কাশীর গঙ্গা ত এখনও শুকায় নাই, সে সমাজের ভয়ও করে না, তাহার জাতিও যায় না ; এ দুঃখের দিনে একটি দুঃখী মেয়েকে স্বচ্ছদে কোলে তুলিয়া লইবে । আমার আর কোথাও আশ্রয় না থাকে, সেখানে থাকিবেই। সরযু চলিতে লাগিল ; কিন্তু চলিতে পারিল না, আবার বসিয়া পড়িল । দয়ালঠাকুর ভাবিলেন, এমন বিপদে তিনি জন্মে পড়েন নাই। র্তাহার গলাটা শুকাইয়া আসিতেছিল ; পাছে অবশেষে দমিয়া পড়েন, এই ভয়ে চীৎকার করিয়া কহিলেন, অপমান না হ’লে বুঝি যাবে না ? এই বেলা দূর হও– ' এমন সময় সহসা বাহির হইতে ডাক আসিল, বাবাজী । হরিদয়াল ব্যস্ত হইয়া উঠিলেন। ঐ বুঝি খুড়ো আসচে। বলিতে বলিতেই Worw