প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রীকান্ত তার কতদিন পরে স্কুলে গিয়েছিলাম এবং আরও যে কতদিন পরে ইঞ্জের সহিত আবার দেখা হইয়াছিল, তাহা মনে নাই। কিন্তু সেটা যে অনেকদিন পরে, একথা মনে আছে। সেদিন শনিবার। স্কুল হইতে সকাল সকাল ফিরিয়াছি। গঙ্গার তখন জল মরিতে শুরু করিয়াছে। তাহারই সংলগ্ন একটা নালার ধারে বসিয়া, ছিপ দিয়। ট্যাঙর মাছ ধরিতে বসিয়া গিয়াছি। অনেকেই ধরিতেছে। হঠাৎ চোখে পড়িল কে একজন অদূরে একটা শর-ঝাড়ের আড়ালে বসিয়া টপাটপ মাছ ধরিতেছে। লোকটিকে ভাল দেখা যায় না, কিন্তু তাহার মাছধরা দেখা যায় । অনেকক্ষণ হইতেই আমার এ জায়গাটা পছন্দ হইতেছিল না। মনে করিলাম, উহারই পাশে গিয়া বসি । ছিপ হাতে করিয়া একটুখানি ঘুরিয়া দাড়াইবামাত্র সে কহিল, আমার ডানদিকে বোস্। ভাল আছিস্ ত রে শ্ৰীকান্ত ? বুকের ভিতরটা ধক্ করিয়া উঠিল। তখনও তাহার মুখ দেখিতে পাই নাই ; কিন্তু বুঝিলাম, এ ইন্দ্র । দেহের ভিতর দিয়া বিদ্যুতের তীব্র প্রবাহ বহিয়া গেলে যে যেখানে আছে এক মুহূৰ্ত্তে যেমন সজাগ হইয়া উঠে, ইহার কণ্ঠস্বরেও আমার সেই দশা হইল! চক্ষের পলকে সৰ্ব্বাঙ্গের রক্ত চঞ্চল, উদাম হইয়া বুকের উপর আছাড় খাইয়া পড়িতে লাগিল। কোনমতেই মুখ দিয়া একটা জবাব বাহির হইল না। এই কথাগুলি লিখিলাম বটে, কিন্তু জিনিসটা ভাষায় ব্যক্ত করিয়া পরকে বুঝানো শুধুই যে অত্যস্ত কঠিন, তা নয়, বোধ করি বা অসাধ্য। কারণ বলিতে গেলে, এই সমস্ত বহু ব্যবহৃত মামুলি বাক্যরাশি—যেমন বুকের রক্ত তোলপাড় করা— উদাম চঞ্চল হইয়া জাছাড় খাওয়া—তড়িৎ প্রবাহ বহিয়া যাওয়া-এই সব ছাড়া ত আর পথ নাই ! কিন্তু কতটুকু ইহাতে বুঝাইল ? ষে জানে না, তাহার কাছে আমার মনের কথা কতটুকু প্রকাশ পাইল ! আমিই বা কি করিয়া তাহাকে জানাইব, এবং সেই বা কি করিয়া তাহ জানিবে ? যে নিজের জীবনে একটি দিনের তরেও অমৃতব করে নাই, যাহাকে প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়াছি, কামনা করিয়াছি, আকাজক্ষা করিয়াছি, অথচ পাছে কোথাও কোনরূপে দেখা হইয়া পড়ে এই ভয়েও অহরহ কাটা হুইয়া আছি, সে এমনি অকস্মাৎ, এতই অভাবনীয়রূপে আমার চোখের উপর থাকিয়া আমাকে পার্শ্বে আসিয়া বসিতে অনুরোধ করিল ! পাশে গিয়াও বসিলাম। কিন্তু তখনও কথা কহিতে পারিলাম না । ইজ কহিল, সেদিন ফিরে এসে বড় মার খেয়েছিলি—না রে শ্ৰীকান্ত ! আমি তোকে নিয়ে গিয়ে ভাল কাজ করিনি। আমার সেজন্তে রোঙ্গ বড় দুঃখ হয় । আমি মাথা নাড়িয়া জানাইলাম, মার খাই নাই। ইন্দ্র খুশী হইয়া বলিল, খাস্নি ! দেখ, য়ে শ্ৰীকান্ত, তুই চলে গেলে আমি মা কালীকে অনেক ডেকেছিলুম-ৰেন তোকে \Nడి ጙ÷¢