প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চন্দ্রনাথ কি জানি কি ভাবিয়া চন্দ্রনাথ তাহাতেই সন্মত হইল। বিজয়ার পর একদিন চন্দ্রনাথ গোমস্তাকে ডাকিয়া বলিল, সরকারমশায়, কাশীতে তাকে রেখে আসবার সময় হরিদয়াল কি কিছু ব’লে দিয়েছিলেন ? সরকার কহিল, র্তার সঙ্গে অামার ত দেখা হয়নি । চন্দ্রনাথ ভয় পাইয়া কহিল, দেখা হয়নি ? তবে কার কাছে দিয়ে এলেন । তার মায়ের সঙ্গে ত দেখা হয়েছিল ? সরকার মাথা নাড়িয়া বলিল, আজ্ঞে না, বাড়িতে ত কেউ ছিল না । কেউ ছিল না ? সে বাড়িতে কেউ থাকে কি না, সে সংবাদ নিয়েছিলেন ত ? হরিদয়াল আর কোথাও উঠে যেতেও ত পারেন । সরকার কহিল, সে সংবাদ নিয়েছিলাম। দয়াল ঘোষাল সেই বাড়িতে থাকতেন । চন্দ্রনাথ নিশ্বাস ফেলিয়া ক্ষণকাল চুপ করিয়া থাকিয়া জিজ্ঞাসা করিল, এ পর্য্যন্ত কত টাকা পাঠিয়েছেন ? আজ্ঞে, টাকা-কড়ি ত কিছু পাঠাইনি। পাঠাননি ! চন্দ্রনাথ বিস্ময়ে, বেদনায়, উৎকণ্ঠায় পাংশুবর্ণ হইয়া কহিল, কেন ? সরকার লজ্জায় খ্রিয়মাণ হইয়া কহিল, মামাবাবু বলেন, পাচ টাকার হিসাবে কিছু পাঠালেই হবে । জবাব শুনিয়া চন্দ্রনাথ অগ্নিমূৰ্ত্তি হইয়া উঠিল। পাচ টাকার হিসাবে ? কেন, টাকা কি মামাবাবুর ? আপনি প্রতি মাসে কাশীর ঠিকানায় পাচশ টাকা ক’রে পাঠাবেন। সরকার, যে আজ্ঞে, বলিয়া স্তম্ভিত হইয়া ধীরে ধীরে সরিয়া গেল । হরকালী এ কথা শুনিয়া চক্ষু কপালে তুলিয়া বলিলেন, সে পাগল হয়েচে । সরকারকে তলব করিয়া অন্তরাল হইতে জোর করিয়া হাসিলেন। হাসির ছটা ও ঘটা বৃদ্ধ সরকার শুনিতেও পাইল, বুঝিতেও পারিল । হরকালী কহিলেন, সরকারমশায়, কত টাকা পাঠাতে বলেচে ? ཆ༩, প্রতিমাসে পাচশ টাকা । ভিতর হইতে পুনৰ্ব্বার বিদ্রুপের হাসি শুনিয়া সরকার ব্যস্ত হইয়া পড়িল । হরকালী অনেক হাসিয়া পরিশেষে গম্ভীর হইলেন। ভিতর হইতে বলিলেন, জাহা, বাছার রাগ হ’লে আর জ্ঞান থাকে না । সে পোড়ী-কপালীর যেমন অদুই । আমি পাচ টাকা ক’রে দিতে বলেচি, তাই রেগে উঠেচে । বলে, পাচশ টাকা । ক’রে দিও ! বুঝলে সরকারমশাই, চন্দ্রনাথের ইচ্ছা নয় যে এক পয়সাও দেওয়া হৰ। Wசடு 》弯一8本