প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কেউ না মারে। কালীঠাকুর বড় জাগ্রত দেবতা রে! মন নিয়ে ডাকলে কখনো কেউ মারতে পারে না। মা এসে তাদের এমৃনি ভুলিয়ে দেন যে, কেউ কিছু করতে পারে না। বলিয়া সে ছিপট রাখিয়া দুই হাত জোড় করিয়া, কপালে ঠেকাইয়া বোধ করি তাকেই মনে মনে প্রণাম করিল। বড়শিতে একটা টোপ দিয়া সেটা জলে ফেলিয়া বলিল, আমি ত ভাবিনি তোর জর হবে ; তা হ’লে সেও হ’তে দিতুম না। আমি আস্তে আস্তে প্রশ্ন করিলাম, কি করতে তুমি ? ইন্দ্ৰ কহিল, কিছুই না। শুধু জবাফুল তুলে এনে মা কালীর পায়ে দিতুম। উনি জবাফুল বড় ভালবাসেন। যে যা ব’লে দেয় তার তাই হয়। এ ত সবাই জানে। তুই জানিস্নে ? আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, তোমার অসুখ করেনি । ইন্দ্র আশ্চৰ্য্য হইয়া কহিল, জামার ? কখ খনে অমুখ করে না। কখনো কিছু হয় না। হঠাৎ উদ্দীপ্ত হইয়া বলিল, দেখ, শ্ৰীকান্ত, আমি তোকে একটা জিনিস শিখিয়ে দেব। যদি তুই দুবেলা খুব মন দিয়ে ঠাকুরদেবতাদের নাম করিসূ—র্তারা সব সামনে এসে দাড়াবেন, তুই স্পষ্ট দেখতে পাবি। তখন আর তোর কোন অমৃথ করবে না। কেউ তোর একগাছি চুল পৰ্য্যস্ত ছুতে পারবে না –তুই আপনি টের পাবি। আমার মতন যেখানে খুশি যা, স্বা-খুশি কর, কোন ভাবনা নেই। বুঝলি ? আমি ঘাড় নাড়িয়া বলিলাম, ই, বড়শিতে টোপ দিয়া জলে ফেলিয়া মৃত্ত্বকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিলাম, এখন তুমি কাকে নিয়ে সেখানে যাও? কোথায় ? ওপারে মাছ ধরতে ? ইন্দ্র ছিপটা তুলিয়া সাবধানে পাশে রাখিয়া বলিল, আমি আর ফাইনে। তাহার কথা শুনিয়া ভারি আশ্চৰ্য্য হইয়া গেলাম। কহিলাম, আর এক দিনও ষাওনি ? না, একদিনও না। আমাকে মাথার দিব্যি দিয়ে–কথাটা ইক্স শেষ না করিয়াই ঠিক যেন ৰতমত খাইয়া চুপ করিয়া গেল । উহার সম্বন্ধে এই কথাই আমাকে অহরহ খোচার মত বিধিয়াছে। কোন মতেই সেই সেদিনের মাছ-বিক্রীট ভুলিতে পারি নাই। তাই সে যদি বা চুপ করিয়া গেল, আমি পারিলাম না। জিজ্ঞাসা করিলাম, কে মাথার দিব্যি দিলে ভাই ? তোমার মা ? না, মা নয়। বলিয়া ইক্স চুপ করিয়া রহিল। তার পরে সে ছিপের গায়ে স্বতাটা ধীরে ধীরে জড়াইতে জড়াইতে কহিল, শ্ৰীকান্ত, জামাদের সে রাত্রির কথা তুই বাড়িতে ৰলে স্িিন ?